Grating
Tuesday, May 23, 2017
ভ্রাতৃত্ব-বোধ বিবেকবোধ মমত্ববোধ হারিয়ে মনুষ্যত্বহীন সমাজ!
ভ্রাতৃত্ব-বোধ বিবেকবোধ মমত্ববোধ-হারিয়ে যাচ্ছে সমাজ থেকে নিত্য-সমাজপতিদের নোংরা প্রভুত্বের লড়াইয়ে!-মনুষ্যত্বহীন হয়ে একভাই আরেক ভাইকে-করে দিচ্ছে দা'য়ের কোপে ক্ষতবিক্ষত!
Monday, May 22, 2017
চিকুনগুনিয়া (Chikungunya)- সময় থাকতেই সতর্ক হোন
চিকুনগুনিয়া একটি ভাইরাসঘটিত রোগ যা এডিস মশা দ্বারা ছড়ায়। এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও আমেরিকার প্রায় ৬০টি দেশে এই রোগ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি আমাদের দেশেও এই রোগটির প্রকোপ দেখা দিয়েছে হঠাত করেই। এই রোগ আপনাকে মেরে ফেলবে না ডেঙ্গু জ্বরের মত করে। রোগের বাহক সেম টাইপের মশা (এডিস) হলেও এটি ডেঙ্গুর মত প্রাণঘাতী নয়। তবে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি প্রচন্ড শারীরিক কষ্টের মধ্যে দিতে যান যা তাকে অনেকটাই অক্ষম করে দিতে পারে কিছুদিনের জন্য। চিকুনগুনিয়ার জন্য সঠিক ঔষুধ এখনো বাজারে আসেনি। সুতরাং আক্রান্ত হওয়ার আগেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই বুদ্ধিমানের কাজ। আসুন দেখে নিই কিভাবে সহজ উপায়ে এই রোগ চিনতে ও ঠেকাতে পারি হওয়ার আগেই-
লক্ষনঃ
১। চিকুনগুনিয়া বহনকারী মশা দংশনের ৩-৭ দিনের মধ্যে লক্ষন দেখা দেবে
২। প্রধান লক্ষন হলো কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা (১০২-১০৪ ডিগ্রি ফা.)
৩। পুরো শরীর প্রচন্ড ব্যথা বিশেষ করে হাড়ের সংযুক্তি স্থল গুলোতে
৪। এছাড়াও পেশীতেও ব্যথা হতে পারে, চুলকানি, মাথাব্যথা কিংবা র্যাশ দেখা দিতে পারে
৫। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে নবজাতক আর বৃদ্ধরা((≥৬৫ বছর) প্রধান শিকার
৬। জ্বর চলে যাবে ৭-১০ দিনের মধ্যে কিন্তু ব্যথা থাকতে পারে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত এমনকি বছরও হতে পারে
প্রতিরোধঃ
১। যেহেতু এটি মশাবাহিত রোগ, সবার আগে মশার জন্মাতে পারে এমন জায়গা খুঁজে বের করে ধ্বংস করতে হবেঃ টবের পানি, গর্তে জমে থাকা পানি, ছাদে-বারান্দায় কোথাও পানি জমতে দেয়া যাবে না
২। এডিস মশা যেহেতু দিনেও কামড়ায় সেহেতু দিনে ঘুমালে মশারি টাঙ্গিয়ে নিন
৩। অ্যারোসল স্প্রে, কয়েল, ইলেক্ট্রিক ব্যাট ব্যবহার করুন মশা মারতে
৪। শরীরের খোলা অংশে ‘মসকুইটো রেপেলেন্ট’ (মশা না কামড়ানোর ক্রিম) লাগিয়ে নিন ঘুমানোর আগে
প্রতিকারঃ
১। আগেই বলা হয়েছে যে চিকুনগুনিয়ার জন্য আলাদা ভাবে কোন ঔষুধ তৈরি হয়নি
২। আক্রান্ত ব্যক্তিকে সম্পূর্ন বেডরেস্ট দিতে হবে
৩। প্রচুর পরিমাণে তরল গ্রহন করতে হবে ডিহাইড্রেশন ঠেকানোর জন্য
৪। জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল দেয়া যেতে পারে। তবে সেটা নিজে করার চাইতে চিকিৎসকের সাথে কথা বলে নেবেন অবশ্যই
৫। ব্যথার জন্য অ্যাসপিরিন দেয়া যাবে না(এর ফলে রক্তক্ষরন হতে পারে যদি ভুলবশত ডেঙ্গু হয়ে থাকে)
৬। ইতিমধ্যে আক্রান্ত হয়ে থাকলে প্রথম সপ্তাহ অবশ্যই মশার কামড় থেকে বেঁচে থাকতে হবে কারন আপনার রক্ত নিয়ে আরেকজনকে দংশন করলে দংশিত ব্যক্তিও আক্রান্ত হবেন
৭। চুলকানির জন্য অ্যান্টি-হিস্টামিন দেয়া যেতে পারে
৮। আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসকের নিকট নিয়ে যেতে হবে
যে কোন রোগ এড়ানোর প্রথম ও প্রধান শর্তই হলো প্রতিরোধ গড়ে তোলা আক্রান্ত হওয়ার আগেই। তাতে ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা কমিয়ে আনা যায় অনেকটাই। চিকুনগুনিয়াও এর ব্যতিক্রম নয়। আর যে কোন রোগ সম্পর্কে ভুল তথ্য ছড়ানো স্বয়ং রোগে আক্রান্ত হওয়ার চাইতেও ভয়াবহ কাজ। নিজে সঠিক না জেনে অন্যকে জানাবেন না। এতে আতঙ্ক ছাড়া আর কিছুই তৈরি হবে না।
সাবধানে থাকুন।
তথ্য সংগৃহিতঃ
১। লিঙ্ক
২। লিঙ্ক
৩। লিঙ্ক
লক্ষনঃ
১। চিকুনগুনিয়া বহনকারী মশা দংশনের ৩-৭ দিনের মধ্যে লক্ষন দেখা দেবে
২। প্রধান লক্ষন হলো কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা (১০২-১০৪ ডিগ্রি ফা.)
৩। পুরো শরীর প্রচন্ড ব্যথা বিশেষ করে হাড়ের সংযুক্তি স্থল গুলোতে
৪। এছাড়াও পেশীতেও ব্যথা হতে পারে, চুলকানি, মাথাব্যথা কিংবা র্যাশ দেখা দিতে পারে
৫। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে নবজাতক আর বৃদ্ধরা((≥৬৫ বছর) প্রধান শিকার
৬। জ্বর চলে যাবে ৭-১০ দিনের মধ্যে কিন্তু ব্যথা থাকতে পারে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত এমনকি বছরও হতে পারে
প্রতিরোধঃ
১। যেহেতু এটি মশাবাহিত রোগ, সবার আগে মশার জন্মাতে পারে এমন জায়গা খুঁজে বের করে ধ্বংস করতে হবেঃ টবের পানি, গর্তে জমে থাকা পানি, ছাদে-বারান্দায় কোথাও পানি জমতে দেয়া যাবে না
২। এডিস মশা যেহেতু দিনেও কামড়ায় সেহেতু দিনে ঘুমালে মশারি টাঙ্গিয়ে নিন
৩। অ্যারোসল স্প্রে, কয়েল, ইলেক্ট্রিক ব্যাট ব্যবহার করুন মশা মারতে
৪। শরীরের খোলা অংশে ‘মসকুইটো রেপেলেন্ট’ (মশা না কামড়ানোর ক্রিম) লাগিয়ে নিন ঘুমানোর আগে
প্রতিকারঃ
১। আগেই বলা হয়েছে যে চিকুনগুনিয়ার জন্য আলাদা ভাবে কোন ঔষুধ তৈরি হয়নি
২। আক্রান্ত ব্যক্তিকে সম্পূর্ন বেডরেস্ট দিতে হবে
৩। প্রচুর পরিমাণে তরল গ্রহন করতে হবে ডিহাইড্রেশন ঠেকানোর জন্য
৪। জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল দেয়া যেতে পারে। তবে সেটা নিজে করার চাইতে চিকিৎসকের সাথে কথা বলে নেবেন অবশ্যই
৫। ব্যথার জন্য অ্যাসপিরিন দেয়া যাবে না(এর ফলে রক্তক্ষরন হতে পারে যদি ভুলবশত ডেঙ্গু হয়ে থাকে)
৬। ইতিমধ্যে আক্রান্ত হয়ে থাকলে প্রথম সপ্তাহ অবশ্যই মশার কামড় থেকে বেঁচে থাকতে হবে কারন আপনার রক্ত নিয়ে আরেকজনকে দংশন করলে দংশিত ব্যক্তিও আক্রান্ত হবেন
৭। চুলকানির জন্য অ্যান্টি-হিস্টামিন দেয়া যেতে পারে
৮। আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসকের নিকট নিয়ে যেতে হবে
যে কোন রোগ এড়ানোর প্রথম ও প্রধান শর্তই হলো প্রতিরোধ গড়ে তোলা আক্রান্ত হওয়ার আগেই। তাতে ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা কমিয়ে আনা যায় অনেকটাই। চিকুনগুনিয়াও এর ব্যতিক্রম নয়। আর যে কোন রোগ সম্পর্কে ভুল তথ্য ছড়ানো স্বয়ং রোগে আক্রান্ত হওয়ার চাইতেও ভয়াবহ কাজ। নিজে সঠিক না জেনে অন্যকে জানাবেন না। এতে আতঙ্ক ছাড়া আর কিছুই তৈরি হবে না।
সাবধানে থাকুন।
তথ্য সংগৃহিতঃ
১। লিঙ্ক
২। লিঙ্ক
৩। লিঙ্ক
আসুন মাসিক নিয়ে কথা বলি।
মাসিক শব্দটার সাথে আমরা ছোট বড় কম বেশী সব ছেলে মেয়েই পরিচিত। তবে এই বিষয়টা নিয়ে আমরা ছেলেরা একটু কটুভাব থাকলেও মেয়েরা এ নিয়ে কথা বলতে বা পরিবারের কিংবা কোন বন্ধু-বান্ধবির সাথে আলোচনা করতেও নারাজ। কারন এটা নাকি লজ্জার বিষয়, অভ্যন্তরীন বিষয়। একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। আমাদের দেশে এই নিয়ে কথা বলতে সংকোচ সবার মধ্যে।
আমরা ছেলেরা যারা মেয়েদের এই মাসিক নিয়ে কটুভাব থাকি তারা কি কখনো একবারও জানার চেষ্টাটুকুনও করেছি যে আপনার বোন, মা, বউ, মেয়ে কিংবা গার্লফ্রেন্ড যখন প্রতিমাসে এই মাসিকে প্রতিত হোন তখন তাদের কতটুকু কষ্ট সহ্য করতে হয়? কতটুকু মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগতে হয়? কতটুকু একাকীত্বতায় থেকে যন্ত্রনায় ছটপট করতে হয়? ভাবেন নি। কারন আপনি আমি রাস্তায়, ক্লাসে, অফিসে কিংবা যেকোন জায়গায় একটা মেয়ের জামাতে একটু লালচে ভাব দেখলেই হাসাহাসি শুরু করে দেই। তাকে বিব্রত করার চেষ্টা করি। যা আমাদের হীনমানসিকতার পরিচয় বহন করে বৈ আর কিছুই না।
আঞ্চলিকতায় মাসিক হলেও একে ইংরেজীতে পিরিয়ড বলে, আরবিতে হায়েজ বলে, আর বৈজ্ঞানিক ভাবে রজঃস্রাব। রজঃস্রাব (ইংরেজি: Menstruation) হলো উচ্চতর প্রাইমেট বর্গের স্তন্যপায়ী স্তরী- একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া যা প্রজননের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রতি মাসে এটি হয়। প্রজননের উদ্দেশ্যে নারীর ডিম্বাশয়ে ডিম্বস্ফোটন হয় এবং তা ফ্যালোপিয়ন টিউব দিয়ে জরায়ুতে চলে আসে এবং ৩-৪ দিন অবস্থান করে। এ সময় যদি পুরুষের সঙ্গে যৌনমিলনের মাধ্যমে নারীর জরায়ুতে শুক্রানু না-আসে এবং এই না-আসার কারণে যদি ডিম্ব নিষিক্ত না হয় তবে তা নষ্ট হয়ে যায় এবং জরায়ুগাত্রের অভ্যন্তরতম সরস স্তর(এন্ডমেট্রিয়াম) ভেঙ্গে পড়ে। এই ভগ্ন ঝিল্লি, সঙ্গের শ্লেষ্মা ও এর রক্ত বাহ থেকে উৎপাদিত রক্তপাত সব মিশে তৈরী তরল এবং তার সংগে এর তঞ্চিত এবং অর্ধ-তঞ্চিত মিশ্রণ কয়েক দিন ধরে লাগাতার যোনিপথে নির্গত হয়। এই ক্ষরণই রজঃস্রাব বা রক্তস্রাব বা ঋতুস্রাব মাসিক।
সহজ করে বললে, ‘মুন ক্যালেন্ডার' বা চন্দ্রমাস অনুয়ায়ী, মেয়েদের জরায়ু যে পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যায় এবং প্রতিমাসে হরমোনের প্রভাবে মেয়েদের যোনিপথ দিয়ে যে রক্ত ও জরায়ু নিঃসৃত তরল পদার্থ বের হয়ে আসে, মাসিক বা ঋতুস্রাব বলে৷
এসময় মেয়েদের অনেক রকমের সমস্যায় পড়তে হয়। মাসিক চলাকালিন মেয়েদের কোমড়, পিঠ, মেরুদন্ড সহ দুই পায়ে ব্যাথা করে। মাথা ঘুরে, বমি বমি ভাব হয়। খিঁচুনি সহ আরো নানাবিদ সমস্যায় পড়তে হয় তাদের। এসময় গুলোতে সাধারনত নিজেদেরকে খুব অসহায় এবং একাকীত্বতা বোধ করে মানসিক সমস্যায় পতিত হয়ে পড়ে। মাসিকের সময় প্রচণ্ড ব্যথায় প্রায় মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে কাঁদে অনেক মেয়ে৷ তাদের ডাক্তার দেখানো হয় না৷ কেন তার ব্যাথাটা ব্যতিক্রম, এ নিয়ে পরিবারের কোনো মাথা ব্যথা নেই৷
মেয়েটি তখন কারো সাথে এই নিয়ে আলোচনাও করতে পারে না। মা বাবা, ভাই বোন কিংবা বান্ধবিদের সাথেও এব্যপারে কোন কথা শেয়ার করতে পারে না। আমাদের সমাজে এসব বলা ঠিক না। বেয়াদপ ভাবে। নির্লজ্জ হিসেবে মেয়েটিকে উল্টো অপবাদ দিতে থাকে। অথচ এই কঠিন সময়টাতেই মেয়েটিকে সাহস দেয়া উচিৎ। যত্ন করা, মানসিকভাবে তাকে সুস্হ রাখা, কি কি করলে তার ব্যাথা উপশম হবে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা। একজন স্বামী একজন বয়ফ্রেন্ড তার। গার্লফ্রেন্ড এর এই সময়টাতে, একজন মা কিংবা বাবা তার মেয়ের এই সময়টাতে অন্যদিন থেকে একটু বেশী কেয়ার, দেখাবাল করা, খাওয়াটা ঠিকমত করানো, একটু বেশী ভালোবাসা দেয়া উচিৎ। কিন্তু এসব আমাদের সমাজে লজ্জার বিষয়। এমন সময় কেউ তাদের পাশে থাকতে চায় না।
সাধারন মাসিক হলে মেয়েরা সেনোরা প্যাড ব্যবহার করে অবশ্যক যাদের সামর্থ্য আছে কিনার। আর যাদের প্যাড কিনার সামর্থ্য নেই তারা পরিষ্কার নরম সুতি কাপড় ব্যবহার করতে পারে। সুতি কাপড়টা অবশ্যই অবশ্যই পরিষ্কার হতে হবে এবং এক কাপড় পরিষ্কার করে দুবার ব্যবহারের পরও অবশ্যই সেটা ফেলে দিতে হবে নয়তো ইনফেকশান হবার সম্ভাবনা থাকে যার কারনে জরায়ু ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা থাকে।
এক ছেলেকে লেখা তার মায়ের চিঠির কয়েকটি কথা দিয়ে লেখাটা শেষ করি,
এক মা তার ছেলেকে একটা চিঠি লিখেছেন। যেখানে খু্ব সুন্দর করে বর্ণনা করেছিলেন মেয়েদের মাসিক হলে কতটা কষ্ট হয়, সেসময় তাদের বিশ্রাম দরকার, ঠিকমত খাওয়া দরকার, পরিচ্ছন্ন থাকা দরকার৷ এমনকি স্কুলে ছেলে মেয়ে একসাথে পড়লে ছেলেরা কোনো মেয়ের জামায় দাগ দেখলে তা নিয়ে যদি কটূক্তি করে, তবে সেটা যে ঠিক নয় সেই মা তার ছেলেকে জানিয়েছিলেন৷ বলেছিলেন তার মেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে যেন বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলে, যেন সচেতনতার কথা বলে, বলে যে তাদের কষ্টটা সেও বোঝে কারণ তার মায়ের কষ্ট হয়৷
এই মায়ের মতো প্রতিটি পরিবারের বাবা-মা কিংবা স্কুলের শিক্ষক- শিক্ষিকারা যদি ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে মাসিক নিয়ে আলোচনা করেন, তবে হয়ত এ বিষয়ে সচেতনতা আরো বাড়বে৷ মাসিক যে একটা নারীকে অন্য একটা প্রাণের জন্ম দেয়ার জন্য তৈরি করে, এটা যে তার জন্য কোনো অভিশাপ নয় বা সমাজের নিষিদ্ধ কোনো আলোচনার বিষয় নয়, মেয়েরা যেন তা বুঝতে পারে এবং ছেলেদের সঙ্গে এ বিষয়ে এ জন্য আলোচনা করা, যাতে ছেলেরা এসময় মেয়েদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে পারে৷ তাই পরিবার আর স্কুলই হোক এক্ষেত্রে একটি ছেলে-মেয়ের সচেতনতার সূতিকাগার৷
আমরা ছেলেরা যারা মেয়েদের এই মাসিক নিয়ে কটুভাব থাকি তারা কি কখনো একবারও জানার চেষ্টাটুকুনও করেছি যে আপনার বোন, মা, বউ, মেয়ে কিংবা গার্লফ্রেন্ড যখন প্রতিমাসে এই মাসিকে প্রতিত হোন তখন তাদের কতটুকু কষ্ট সহ্য করতে হয়? কতটুকু মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগতে হয়? কতটুকু একাকীত্বতায় থেকে যন্ত্রনায় ছটপট করতে হয়? ভাবেন নি। কারন আপনি আমি রাস্তায়, ক্লাসে, অফিসে কিংবা যেকোন জায়গায় একটা মেয়ের জামাতে একটু লালচে ভাব দেখলেই হাসাহাসি শুরু করে দেই। তাকে বিব্রত করার চেষ্টা করি। যা আমাদের হীনমানসিকতার পরিচয় বহন করে বৈ আর কিছুই না।
আঞ্চলিকতায় মাসিক হলেও একে ইংরেজীতে পিরিয়ড বলে, আরবিতে হায়েজ বলে, আর বৈজ্ঞানিক ভাবে রজঃস্রাব। রজঃস্রাব (ইংরেজি: Menstruation) হলো উচ্চতর প্রাইমেট বর্গের স্তন্যপায়ী স্তরী- একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া যা প্রজননের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রতি মাসে এটি হয়। প্রজননের উদ্দেশ্যে নারীর ডিম্বাশয়ে ডিম্বস্ফোটন হয় এবং তা ফ্যালোপিয়ন টিউব দিয়ে জরায়ুতে চলে আসে এবং ৩-৪ দিন অবস্থান করে। এ সময় যদি পুরুষের সঙ্গে যৌনমিলনের মাধ্যমে নারীর জরায়ুতে শুক্রানু না-আসে এবং এই না-আসার কারণে যদি ডিম্ব নিষিক্ত না হয় তবে তা নষ্ট হয়ে যায় এবং জরায়ুগাত্রের অভ্যন্তরতম সরস স্তর(এন্ডমেট্রিয়াম) ভেঙ্গে পড়ে। এই ভগ্ন ঝিল্লি, সঙ্গের শ্লেষ্মা ও এর রক্ত বাহ থেকে উৎপাদিত রক্তপাত সব মিশে তৈরী তরল এবং তার সংগে এর তঞ্চিত এবং অর্ধ-তঞ্চিত মিশ্রণ কয়েক দিন ধরে লাগাতার যোনিপথে নির্গত হয়। এই ক্ষরণই রজঃস্রাব বা রক্তস্রাব বা ঋতুস্রাব মাসিক।
সহজ করে বললে, ‘মুন ক্যালেন্ডার' বা চন্দ্রমাস অনুয়ায়ী, মেয়েদের জরায়ু যে পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যায় এবং প্রতিমাসে হরমোনের প্রভাবে মেয়েদের যোনিপথ দিয়ে যে রক্ত ও জরায়ু নিঃসৃত তরল পদার্থ বের হয়ে আসে, মাসিক বা ঋতুস্রাব বলে৷
এসময় মেয়েদের অনেক রকমের সমস্যায় পড়তে হয়। মাসিক চলাকালিন মেয়েদের কোমড়, পিঠ, মেরুদন্ড সহ দুই পায়ে ব্যাথা করে। মাথা ঘুরে, বমি বমি ভাব হয়। খিঁচুনি সহ আরো নানাবিদ সমস্যায় পড়তে হয় তাদের। এসময় গুলোতে সাধারনত নিজেদেরকে খুব অসহায় এবং একাকীত্বতা বোধ করে মানসিক সমস্যায় পতিত হয়ে পড়ে। মাসিকের সময় প্রচণ্ড ব্যথায় প্রায় মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে কাঁদে অনেক মেয়ে৷ তাদের ডাক্তার দেখানো হয় না৷ কেন তার ব্যাথাটা ব্যতিক্রম, এ নিয়ে পরিবারের কোনো মাথা ব্যথা নেই৷
মেয়েটি তখন কারো সাথে এই নিয়ে আলোচনাও করতে পারে না। মা বাবা, ভাই বোন কিংবা বান্ধবিদের সাথেও এব্যপারে কোন কথা শেয়ার করতে পারে না। আমাদের সমাজে এসব বলা ঠিক না। বেয়াদপ ভাবে। নির্লজ্জ হিসেবে মেয়েটিকে উল্টো অপবাদ দিতে থাকে। অথচ এই কঠিন সময়টাতেই মেয়েটিকে সাহস দেয়া উচিৎ। যত্ন করা, মানসিকভাবে তাকে সুস্হ রাখা, কি কি করলে তার ব্যাথা উপশম হবে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা। একজন স্বামী একজন বয়ফ্রেন্ড তার। গার্লফ্রেন্ড এর এই সময়টাতে, একজন মা কিংবা বাবা তার মেয়ের এই সময়টাতে অন্যদিন থেকে একটু বেশী কেয়ার, দেখাবাল করা, খাওয়াটা ঠিকমত করানো, একটু বেশী ভালোবাসা দেয়া উচিৎ। কিন্তু এসব আমাদের সমাজে লজ্জার বিষয়। এমন সময় কেউ তাদের পাশে থাকতে চায় না।
সাধারন মাসিক হলে মেয়েরা সেনোরা প্যাড ব্যবহার করে অবশ্যক যাদের সামর্থ্য আছে কিনার। আর যাদের প্যাড কিনার সামর্থ্য নেই তারা পরিষ্কার নরম সুতি কাপড় ব্যবহার করতে পারে। সুতি কাপড়টা অবশ্যই অবশ্যই পরিষ্কার হতে হবে এবং এক কাপড় পরিষ্কার করে দুবার ব্যবহারের পরও অবশ্যই সেটা ফেলে দিতে হবে নয়তো ইনফেকশান হবার সম্ভাবনা থাকে যার কারনে জরায়ু ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা থাকে।
এক ছেলেকে লেখা তার মায়ের চিঠির কয়েকটি কথা দিয়ে লেখাটা শেষ করি,
এক মা তার ছেলেকে একটা চিঠি লিখেছেন। যেখানে খু্ব সুন্দর করে বর্ণনা করেছিলেন মেয়েদের মাসিক হলে কতটা কষ্ট হয়, সেসময় তাদের বিশ্রাম দরকার, ঠিকমত খাওয়া দরকার, পরিচ্ছন্ন থাকা দরকার৷ এমনকি স্কুলে ছেলে মেয়ে একসাথে পড়লে ছেলেরা কোনো মেয়ের জামায় দাগ দেখলে তা নিয়ে যদি কটূক্তি করে, তবে সেটা যে ঠিক নয় সেই মা তার ছেলেকে জানিয়েছিলেন৷ বলেছিলেন তার মেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে যেন বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলে, যেন সচেতনতার কথা বলে, বলে যে তাদের কষ্টটা সেও বোঝে কারণ তার মায়ের কষ্ট হয়৷
এই মায়ের মতো প্রতিটি পরিবারের বাবা-মা কিংবা স্কুলের শিক্ষক- শিক্ষিকারা যদি ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে মাসিক নিয়ে আলোচনা করেন, তবে হয়ত এ বিষয়ে সচেতনতা আরো বাড়বে৷ মাসিক যে একটা নারীকে অন্য একটা প্রাণের জন্ম দেয়ার জন্য তৈরি করে, এটা যে তার জন্য কোনো অভিশাপ নয় বা সমাজের নিষিদ্ধ কোনো আলোচনার বিষয় নয়, মেয়েরা যেন তা বুঝতে পারে এবং ছেলেদের সঙ্গে এ বিষয়ে এ জন্য আলোচনা করা, যাতে ছেলেরা এসময় মেয়েদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে পারে৷ তাই পরিবার আর স্কুলই হোক এক্ষেত্রে একটি ছেলে-মেয়ের সচেতনতার সূতিকাগার৷
Tuesday, May 16, 2017
ধর্ষণ সচেতনতা নিয়ে একটি অনুবাদ গল্প পড়ুনঃ শি ডিসার্ভ এবরিথিং শি গেট
শি ডিসার্ভ এভরিথিং শি গেট
ডেনা জনসন
অনুবাদ: রাবেয়া রব্বানী
আমরা সবাই আগুনের কুণ্ডলীর চারপাশে বসে কিভাবে ধর্ষণ থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায় তা নিয়ে কথা বলছি।আমরা উপদেশ দিচ্ছি।আমাদের মতামত আছে,চাইলে নির্দেশনাও দিতে পারি,কেননা আমরা প্রাপ্ত বয়স্ক এবং গার্ট্রুড এখনো বাচ্চা মেয়ে।আমরা সবাই কলেজ পার করেছি বহু আগে।তাই আমরা ভালভাবেই জানি কি বলছি না বলছি।
গার্ট্রুড অন্যরকম মেয়ে।সে তার গ্রাজুয়েশন উপলক্ষে ছুটি কাটাতে এসেও আমাদের কথা রাত জেগে শুনছে।বাধ্যগত মেয়েরা যেমন হয় সে ঠিক তেমন।কাউকে চোখ রাঙ্গিয়ে কথা বলতে জানে না।বড়রা যখন তার সাথে কথা বলতে যায় তখন তাকে মোবাইল নিয়ে গুঁতোগুঁতি করতে দেখা যায় না। না!তাকে কখনো বাজে কথা বা গালাগাল করতে শোনা যায় না।“যে যা ভাবুক” শব্দটা তার অভিধানে নেই।সে মানিয়ে চলতে জানে এবং ভদ্রও বেশ।তাই তার বাবা মায়ের মুখে সব সময় এই কথাটা শুনতে পাওয়া যায়, “ও যা যা পায় সবই ওর প্রাপ্য।” হ্যাঁ!মেয়েটা পায়ও বাবা!যখন যা চায় তাই তার সামনে হাজির করা হয়।সে বিশ্বাস করে সব কিছু তার জন্যই।প্রিয়াস ব্রান্ডের গাড়িটা তার জন্যই কেনা,বাড়িটাও তার বাবা-মা তার জন্যই কিনেছে যাতে কলেজে উঠার পর সে সেখানে থাকতে পারে।এই যে সান-ডিয়েগোতে এই ছুটিতে ঘুরতে আসলাম সবাই মিলে, এটাও তার জন্য।কোন ছাতার সংবাদ পত্রে যেন সে এই বাড়িটার ছবি দেখেছিল আর ওমনি আবদার আর সেই আবদার রক্ষায় সবার কী দৌড়ঝাঁপ!এই যে আগুনের চারপাশে বসে ধর্ষণ থেকে নিজেকে করার রক্ষা করার কৌশল সম্পর্কে আলোচনা করছি ,এই মুহূর্তের এত এত বক্তৃতা সবই এই মেয়েটির জন্য।
গার্ট্রুডের চাচা এবং আমার স্বামী প্রায়ই আমাকে বলে, “ওর ব্যাপারে তোমার এত জ্বলে কেন?”
আমার স্বামী বলে এটা স্বাভাবিক না।তার ধারণা এর প্রধান কারণ হচ্ছে আমি মধ্য বয়স্কা।আমি হয়তো তার মেদহীন পেট এবং বয়সের ছাপহীন চোখকে হিংসা করি।তার নিয়ম ভাঙ্গার ক্ষমতাতে জ্বলে যাই।আমার স্বামী বলে “এটা টিন এজ মেয়ের প্রতি তোমার এক রকম হিংসা।তুমি ভেবে দেখো ব্যাপারটা ভালো করে।”
আর তারপর আমি চোখ পাকিয়ে বলি,
হলে হবে।তোমার কি?
ধর্ষণ সম্পর্কে এখন কথা বলা যাচ্ছে কেননা তার ছোট ভাই বোন এখন উপর তলার বাচ্চাদের ঘরে ঘুমাচ্ছে।তাদের ছাদ আর দেয়াল তারায় মোড়া আর পুরো মহাবিশ্ব তাদের হাতের মুঠোয় বন্দি।
এটা দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া।এখানে দিনে গরম এবং শীত।আগুনের কুণ্ডলীটা উঠানের মাঝে তৈরি করা হয়েছে।সেটা সান ডিয়েগো সমুদ্রের দিকে আগুনের ফুলকি উড়াচ্ছে।কুয়াশার কারণে সমুদ্র আমরা এখান থেকে কেউ দেখতে পাচ্ছি না।আমরা শুনতে পাচ্ছি বিশাল বিশাল অনুভূতির মত বিশাল বিশাল ঢেউ এসে গর্জন করছে, তীরে এসে আছড়ে পড়ছে।ঢেউ আছড়ে পড়ার শব্দ প্রথমে “ধরাস” হয় তা থেকে একেবারে “হিসসস” এ পরিণত হচ্ছে।শব্দটা তেমন একটা জোরালো না হলেও চেষ্টা করলে ঠিক শোনা যায়।
গার্ট্রুডের বাবা এখন মাতাল তাই সে এখন তার ভাইয়ের মতো কথা বলছে। সে বলল,
“কিছু ছেলে-ছোকরা তোমার সাথে ঘেঁষা-ঘেঁষি করতে চাইবে বুঝলে? তোমার বুঝতে হবে কি করা উচিত কি করা উচিত না”।
গার্ট্রুড তার মাথা নাড়ল।লাল পনিটেল দুলিয়ে দুলিয়ে বলল,
“আমি জানি।তুমি আমাকে বিশ্বাস করতে পারো।”
তার মা বলল
“শয়তানগুলো তোমার শরবতের পেয়ালায় কিছু মিশিয়ে দিতে পারে।যেমন তারা উপরে উপরে করোনা বিয়ারের মগ গ্লাসে গ্লাসে ঠুকে উল্লাস জানাবে।আসলে তারা তোমাকে রুফি ড্রাগস দিবে”।
তার চাচা ও আমার স্বামী বলল,
“কোন অবস্থাতেই কোন ফালতু ছেলেকে তোমার জন্য পানীয় কিনতে দিবে না।নিজের পানীয় নিজে কিনে খাবে।তাকে বলবে তোমার কাছে যা টাকা আছে তাতে তুমি তাকেই উল্টো পুরো এক বছরের পানীয় কিনে দিতে পারবে।তুমি জানো কেন?”
“আমি জানি ।মা বলেছে।”
আমি বললাম,
“তোমকে আসলেই অনেক অনেক সতর্ক থাকতে হবে।কেউ কখনো আমাকে রুফি দিতে সাহস করেনি।আমার পরিচিত কেউও নয়।আমি কোন নেশাগ্রস্থ গাধার সাথে কথা বলিনি।কখনো এমন কাউকে বিশ্বাস করবে না যে বলবে সে তোমার খুব খেয়াল রাখবে।এদের দশজনের মধ্যে নয়জনই ভুয়া”।
যেহেতু গার্ট্রুড কলেজে যাচ্ছে তাই সবাই যার যার স্মৃতি ঝালিয়ে নিতে চাইল। তার বাবা তার স্কুল জীবনে খুব দুরন্ত ছিল।মাতাল হয়ে গাড়ি চালানো থেকে মেয়েদের সাথে ঝোলাঝুলি থেকে আজেবাজে কাজ কম করে নি।তাই সে তার মেয়েকে বারণ করে এরকম কাজ কখনো যাতে না করে। তার মা ছাত্র সংগঠনে জড়িত ছিল।শান্তি ও সুবিচারের পক্ষে ছিল সে।আজ রাতটা তার সেই সময়ের স্মৃতি উশকে দিয়েছে।আর আমার জন্য কলেজ-জীবন অনেক উচ্চমূল্যের ছিল।আমি যা যা চাইতাম তা পেতাম না।গার্ট্রুড আমাকে জিজ্ঞেস করল,
“তোমার কলেজ জীবনের সবচেয়ে প্রিয় বিষয় কি?”
আমি বললাম,
“আমাকে কয়েক মিনিট ভাবতে সময় দাও”
তারপর আমি আগুনের চারপাশে বসা সবগুলো মানুষের মুখের দিকে তাকালাম।কেমন জানি ভুতুড়ে পরিবেশ।আর কুয়াশার কথা কি বলব!দূর থেকে ঘন দেখা গেলে কি হবে, এটা ফিনফিনে।আমাদের চারপাশে স্থির হয়েও নেই। কাছ থেকে অদৃশ্য এবং তা কাছাকাছি বসা আমাদের মুখ কোনমতেই আড়াল করতে পারছে না।
আমার স্বামী কিছুক্ষণ পর বলল,
“সে গান খুব পছন্দ করত।”
যদিও সে আমাকে তখন চিনত না তবে সে ঠিক বলছে।আমি ভুলে গিয়েছিলাম।
গার্ট্রুড বলে উঠল,
“আশির দশকের স্টাইলই সেরা।”
সে আসলেই আশির দশকের সেই কচ্ছপের খোলের ছাপ দেয়া বিশ্রী চশমাটা পরে আছে।এটা আমিও পড়তাম সেসময়।আমার অবশ্য অন্য কোন উপায় ছিল না তাই পরতে হতো।কেবল এই চশমাটা পড়ার সামর্থ্যই আমাদের ছিল।আমার ও জোসেফার।জোসেফা আমার সবচেয়ে প্রিয় বান্ধবী।আমাদের সেই চশমাটা কেনার সামর্থ্য ছিল না যেটা মুখে একেবারে সেঁটে থাকত।ঠিক বাইনোকুলারের মতো ছিল যেটা।আমরা যেমন মেয়ে ছিলাম তাদের তারা বলা হয় “আজব”।এযুগে এটা কিছুটা প্রশংসনীয় শব্দ হলেও তখন সেটা তেমন কোন ভালো উপাধি ছিল না।আমরা জানতাম না আমরা কে।আমি ও জোসেফা।যে জোসেফা কলেজে যেতে চাইতো না কিন্তু তার আমার সাথে কলেজে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল।আমি স্কুল পরীক্ষায় পাশ করেছিলাম।এখনকার মতো নির্বাচিত কলেজে না,তখন আমি সকল কলেজের ফরম পূরণ করেছিলাম।আমার বাবা মাও সহায়তা করেছিলেন।জোসেফা এ নিয়ে ঝোলাঝুলি করে নি।সে বলেছিল, “আমার কখনোই ভর্তি হওয়া হবে না।” যেহেতু আমি পাশ করেছিলাম আর সে পাশ করে নি।আমি তাকে বলেছিলাম, “সপ্তাহ শেষে চলে এসো।”
সে বলেছিল, “পারব না।ধুর।আমাকে কাজ করতে হবে। কিন্তু এক রাতে আমি তোমার ঘাড়ে এসে চাপবো ঠিক।”
তাই সে একদিন এসেছিল।
আমি জোসেফাকে দেখাতে চাচ্ছিলাম সে কোন কোন জিনিস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং কি কি তার প্রাপ্য ছিল।কিন্তু সে যখন এসেছিল আমার মতো তারও কিছু ছিল না ।একটা প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগে তার কিছু জামা কাপড় ছাড়া সে কিছু নিয়ে আসে নি।ঠিক স্টিন ব্যাকের উপন্যাসের হোবোর মতো। হোবোর মতো তার হাতে শুধু লাঠিটাই ছিল না।সে সান গাব্রিয়াল ভেলী থেকে এসেছিল।সেখানে সে মুদী সদাইয়ের প্যাকেট করার কাজ করতো আর বাজারের গাড়ি ঠেলত।আমার চাকরীটাও তেমন যুতের ছিল না।লোকজনকে গিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করতাম, তারা আলু ভাজা খাবে কিনা। তখনও জোসেফার চেয়ে আমার রুচি-বোধ সূক্ষ্ম ছিল। অন্তত এটা বুঝতাম এমন একটা চাকরী বেশিদিন করা যাবে না।যাই হোক যখন জোসেফা দরজায় ঘণ্টি বাজিয়েছিল আমি রুমমেটদের সাথে সে এপার্টমেন্টে থাকতাম সেখানে তখন ব্যস্ততা শুরু হয়ে গিয়েছিল।হল রুমে মানুষ-জন ভরে গিয়েছিল।মারিয়া ফার্নান্দ তার সোফায় বসে তার ক্যাসেট প্লেয়ারে রিক জেমস এবং আর ই এম বাজাচ্ছিল।মারিয়া ফার্নান্দ।যাকে প্রথমবার ভুল করে মারিয়া ডেকেছিলাম বলে সে বলেছিল, “এক সাথে বল।দুই নাম একসাথে করে আমাকে ডাকবে।”
আমি সেটাকে মারিয়া ফার্নান্দার সোফা বলছি বলছি কারণ সেটা তার সোফাই ছিল। এপার্টমেন্টের সাথে যে পুরনো সবুজ সোফাটা ছিল,যেটা দিনের পর দিন ছাত্রছাত্রীদের পশ্চাৎ-ভাগের ঘষা খেয়ে এসেছিল সেটাকে সে বসার উপযোগী ভাবেনি।আমি যেদিন বাসাটায় উঠেছিলাম তার একদিন পরই সে উঠেছিল সেখানে।লম্বা,ঝাঁকরা চুল আর সোনালী বালা পরা মেয়েটা।সোফাটার দিকে তাকিয়ে সে দাঁতে জিভ চুকচুক শব্দ করেছিল, “কি জঘন্য!”খুব সুন্দর ইংরেজিতে সে উচ্চারণ করছিল।দা থ্রি স্টুজেজ টিভি সিরিয়াল থেকে সে এভাবে কথা বলা শিখেছিল।দুই দিন পর সেই মলিন সোফাটার বদলে সে সময়ের কেতাদুরস্ত সাদা সোফাটা চলে এসেছিল।আমি সেখানে কখনো বসি নি।
মারিয়ার অতিথির সেখানে এভাবে বসেছিল যেন সেটা তাদেরই বাড়ি।আমি তাদের রান্নাঘর থেকে দেখছিলাম আর মুখের ভেতর চিতোস চিপস ঠুসছিলাম।বয় জর্জের মতো একটা লোক ছিল সেখানে।সে সময়ে একটা উপন্যাসে এমন চরিত্র ছিল মনে হচ্ছিল সেটা বাস্তবে দেখতে পাচ্ছি।একজন মানুষ যে একি সাথে মহিলা ও পুরুষ।যার মাথায় নানান রঙের জট।কালো মানুষদের চুল যেমন হয় তেমন।আমি জোসেফাকে দেখতে পাব বলে খুশী হয়েছিলাম।কিন্তু বুঝতে পারছিলাম না সে সঠিক ভাবে পথ চিনে আসতে পারবে কিনা।সব এপার্টমেন্টই দেখতে একি রকম ছিল প্রায়।একি রাস্তার উপর রোদে পোড়া ,ওটমিল রঙ্গা সার সার দাঁড়িয়ে।তাই আমি দরজার চেরা অংশের ফাটল দিয়ে বাইরে উকি দিচ্ছিলাম।সে এসে ভেতরে ঢুকেছিল এবং তাদের দিকে তাকিয়ে ছিল।তার দৃষ্টি বয় জর্জের উপর গিয়ে পড়েছিল।ঠিক যেভাবে গ্রাম্য মানুষেরা শহুরে মানুষ দেখে সেভাবে তাকিয়ে ছিল সে এবং এটা সত্য আমাদের পার্বত্য অঞ্চলে আমরা এমন মানুষ কখনো দেখিনি।কেননা আমাদের অভিভাবকরা কষ্ট করে আমাদের বড় করতেন।তারা চাইতেন না আমরা দেখতে প্রথা বিরোধী হই।জোসেফা তাদের দিকে তাকিয়ে হাত নেড়েছিল তারপর তাড়াতাড়ি তাদের অতিক্রম করে রান্নাঘরের মেঝেতে প্ল্যাস্টিকের ব্যাগটা হাত থেকে নামিয়ে রেখেছিল।তার মাথায় সে লাল ফুল তোলা ব্যান্ডটা ছিল,কোঁকড়া চুলের কারণে তার অনেকটাই ঢাকা পড়ে গিয়েছিল।আমি তাকে জড়িয়ে ধরে আমার ঘরে নিয়ে গিয়েছিলাম।আমার ঘরে তেমন আসবাব ছিল না।ছিল একটা বাজে খাট আর কাঠের পরত উঠে যাওয়া বাদামী একটা টেবিল, আর ছিল ইংল্যান্ডের কোন এক ইটের তোরণের পাশে দাঁড়ানো স্মিথের একটা পোষ্টার।আমি জোসেফার প্ল্যাস্টিকের ব্যাগটা আমার জিনিসপত্রের মধ্যে সাবধানে আড়াল করে রেখেছিলাম।ময়লা পোশাকের ঝুড়ির ঠিক পেছনে।কেননা এমন এক জায়গায় আমাদের জন্ম হয়েছিল যেখানে সাবধানী না হলে লোকে ভালো ভাবে নিত না।
“তুমি এলে তবে”
আমি বলেছিলাম,
জোসেফা মাথা নেড়েছিল, “সেই সোফাটা। আচ্ছা সেটা কতদিন আর সাদা থাকবে?”
আমি কাঁধ ঝাঁকিয়ে, চোখ পাকিয়ে বলেছিলাম, “আরে একটা নষ্ট হলে আর একটা আনবে ও।”
আমি বলতে যাচ্ছিলাম যে, “আমার রুমমেট কত বোকা কিভাবে টাকা নষ্ট করছে।” এটা না বলে বরং আমিও ফুটানি করেছিলাম।
জোসেফা একটু গোছগাছ করে, তার মাথার লাল ব্যান্ড উঁচিয়ে, পিঠ সোজা করে বলেছিল, “চল বয় জর্জকে দেখে আসি।”
গার্ট্রুডের বাবা বলল,
“আমরা সবাই তোমাকে নিয়ে গর্বিত। তুমি কখনো আমাদের সমস্যায় ফেলোনি।”
তার মা বলল, “তুমি এমন একটা সন্তান যে যেকোনো জায়গায় যেতে পারে।প্যারিস, মরক্কো।”
সে আমার দিকে তাকাল।আর আমার স্বামী বলল,
“গার্ট্রুড মায়ের মতো হয়েছে।এই বাসাটা দেখো। কত সুন্দর তাই না?একটা ছুটি কাটানোর মতো বাড়ি।এটা এমন, ঠিক যেমনটা আমি চাই।গ্রাজুয়েশনের খুশিতে দুই সপ্তাহের জন্য এই বাড়ীটায় সবাই মিলে থাকতে চাওয়া ওর বয়সী মেয়ের জন্য অবিশ্বাস্য।অন্য ছেলে-পেলে হলে আকাশের চাঁদই চেয়ে বসতো।সে এতকিছু চায় নি।কেবল সান-ডিয়েগোতে আসতে চেয়েছে।বাড়ি থেকে মাত্র ছ-ঘণ্টার পথ।”
আমি আমার স্বামীর দিকে তাকালাম।সে কথাগুলো বলার সময় আমার দিকে খুব সতর্ক ভাবে তাকিয়ে ছিল।কিন্তু আমার চেহারা?আমার চোখ তাকে কিছুই বলেনি।
সে জিজ্ঞেস করল,
“তুমি কি আর একটু শ্যাম্পেইন খাবে?”
কলম্বোবাসীরা আসবে বলেই আমি সেই সপ্তাহ শেষের ছুটিতে জোসেফাকে আসতে বলেছিলাম।আমি তাকে কথা দিয়েছিলাম।যারা এসেছিল তারা ছিল মারিয়া ফার্নান্দার চাচাতো ভাই।মারিয়া এমন একজন যাকে আমি কখনো কলেজ জীবনে কল্পনা করিনি।এরকম মানুষকে কখনো জানা যায় না।সে কখনোই আশেপাশে থাকত না, কেবল যখন বাড়িতে হই-হল্লা,নাচ, মদ্যপান আর উচ্চস্বরে কথা বার্তা হতো তখন তাকে পাওয়া যেত।মারিয়া ফার্নান্দ আমার উপর বিরক্ত হতো আমি বুঝতাম। সে যে সব বিষয়ে কথা বলতে পছন্দ করতো আমি তার কিছুই জানতাম না।যে সব জায়গায় সে গিয়েছিল আমি সেখানে যাই নি।বরফে স্কী কিংবা নদীতে ভেলায় চড়ে ঢেউয়ে দোল খাওয়া।আমি কি আর এসব করেছিলাম কখনো?ছোট রাবারের নৌকায় চড়ে বড় বড় ঢেউয়ের উপর চড়ে বেড়ানো?মলিন সোফা চাইতেই বদলে ফেলা? তখন সে একটা উৎসব করতে তার ভাইদের দাওয়াত করেছিল।আমি যাদের ছবি দেখেছিলাম।তিনজনই দেখতে সুদর্শন ছিল।একটি ছবিতে দেখেছিলাম, একটি রূপালী কাঠামোতে তারা একটা পিরামিড বানাতে চাচ্ছিল কিন্তু তা হতে পারেনি।ছোট ভাইটি উপর থেকে পড়ে যাচ্ছিল এবং তাদের সবার গালেই টোল পড়া হাসি ছিল।আমি চাচ্ছিলাম জোসেফা সেখানে থাকুক।আমি চাচ্ছিলাম জোসেফা কলেজ জীবনের প্রেমে পড়ুক।আমরা আমাদের মায়েদের মতো হতে চাই নি।তাদের মতো চাকরী ধরে রাখতে মরিয়া হওয়া,একাধিক বাচ্চা নেয়া।আমাদের মায়েদের কথা শুনলে মনে হতো পুরুষদের পেতে হলে যুদ্ধ করতে হবে।
আগুনের কুণ্ডলীটা হঠাৎ উশকে উঠল। আমি ভয় পেলাম।কিন্তু বুঝতে পারলাম আমার পিছনে আমার স্বামী ,সে নিজেই আগুনকে আরও প্রজ্বলিত করতেই এসেছে।
তার ভাই বলল।
“বেশি হয়ে গেছে নাকি রে? কত আগুন আমাদের লাগবে আর?”
আমার স্বামী বলল, ঠিক আছে।
তার রিডিং গ্লাস তার সামনের দিকের পাতলা চুল হয়ে নাকে এসে পড়তে সে বাঁকা হাসি হাসল।
আমি দেখছি আগুন আরও লম্বা হয়ে দৈত্যের মতো নাচছে।
ম্যাডাম।
আমার স্বামী একটা পরিষ্কার গ্লাসে করে শ্যাম্পেন দিয়ে গেল।প্রথম গ্লাসটা সে নিয়ে গেল কারণ তাতে আমার আঙ্গুলের ছাপ আছে।আমার একটা অভ্যাস যে আমি একটু পর পর একটা পরিষ্কার গ্লাস চাই।আমি আমার দ্বারা নোংরা করা কিছু বা গ্লাসে লিপস্টিকের দাগ দেখতে পছন্দ করিনা।আমি চাইনা এগুলো অন্যে দেখুক।
গার্ট্রুড কম্বলে মুড়ে আছে।দেখেই বুঝা যাচ্ছে পরিষ্কার করে ধোঁয়া কম্বলটা।চশমার কাচের ভেতর দিয়ে তার মা আগুনের দিকে তাকিয়ে আছে।আমরা সবাই তাকিয়ে আছি।আগুন এমন কেন? আমাদের তাকাতেই হয় কেন তার দিকে?আমরা সবাই চুপ হয়ে গিয়েছি।এটা হয়ত বিয়ার,মদ এবং হুইস্কির প্রভাব।কিংবা এটা কুয়াশার কারণে।গার্ট্রুড হাই তুলে বলল,“কেউ একটা ভুতের গল্প বল না?”তারপর তার বাবা চালকের গল্পটা বলে।আমরা সবাই তা শুনেছি।কিন্তু এটা এমন একটা গল্প যা সবাই শুনেছি কিন্তু কেউই ঠিকঠাক মনে রাখতে পারিনা ।যেখানে আপনার মনে হবে একজন চালক মানুষকে গাড়িতে নিয়েছে কিন্তু আসলে সে একটা ভূত।এবং ভুতকেই বারংবার নিচ্ছে সে।আহ এটা শোনার পর কে অপরিচিত লোক তার গাড়িতে নেবে?
তারা ছিল তিন ভাই। উচ্চতার ভিত্তিতেও পরপর তিনজন। তারা সব সময়ই সব অনুষ্ঠানেই ওভাবে দাঁড়াতো।বড় থেকে মাঝারি তারপর ছোট।লম্না জন টেকো, লম্বা নাকের অধিকারী।মধ্য জনের হাত অতিরিক্ত নরম, ছোট এবং আদ্র।আমার হাত ঝাঁকানোর সময় আমি বুঝেছিলাম।সবচেয়ে ছোট যে, তার চোখ সবুজ।আর হাত একদম সঠিক উচ্চতা, আর্দ্রতার এবং সঠিক সহনীয় মাত্রার সুঠাম।রান্নাঘরের যেখান থেকে আমি তাদের খেয়াল করছিলাম আমি বুঝতে পারছিলাম সে জোসেফাকে পছন্দ করেছে।সে জোসেফাকে খেয়াল করছিল।আর জোসেফা সে খাবারের মতো একের পর এক জেলো ফ্লেবারের এলকোহল পানীয় পান করে যাচ্ছিল।তখন আমি জানতাম না সেটা কি?কিন্তু এখন জানি সেগুলো খাওয়া ঠিক না।
সে যখন রান্নাঘরে পানি খেতে এসেছিল।আমি তার হাত মুচড়ে দিয়ে বলেছিলাম, “তোমার কি ছেলেটাকে ভালো লেগেছে?”আমি চাচ্ছিলাম তার ভালো লাগুক।আমি তার দিকে ভ্রূ উঁচিয়ে হেসেছিলাম।তার ভালোর জন্যই চাচ্ছিলাম সে যেন ছেলেটাকে পছন্দ করে।জোসেফা বলেছিল,“সে দেখতে খুব সুন্দর।হ্যাঁ,আমার মনে হয় আমি তাকে পছন্দই করেছি।সে একজন ডক্টর হতে চায়।”
“বাহ!তুমি মেক্সিকান আর সে কলোম্বিয়ান।দারুণ তো।জোসেফা আমার দিকে তাকিয়ে হেসে বলেছিল, তোমার কি মনে হয় এ দু দেশের মানুষের কোন মিল আছে?” সে যখন হেঁটে ফিরে যাচ্ছিল আমার দিকে ফিরে তাকিয়ে হেসেছিল।কিছু দূরে গিয়ে তার আঙ্গুল সযত্নে একটি সাদা দেয়ালে ছন্দ তুলেছিল।আমি তখন দিব্য চোখে যা যা দেখেতে পাচ্ছিলাম তা হল, স্কী ভ্রমণ, নদীতে ভেলায় করে ঢেউয়ে ভাসা, সীমান্তবর্তী শহরে লম্বা কাঠের টেবিলে অভিজাত রাতের খাবার।বাতাসে টেবিল-ক্লথের উড়তে চাওয়া।আমি আরও অনেক কিছু দেখছিলাম যার কোন অস্তিত্ব বাস্তবে ছিল না।
কিছুক্ষণ পর রাতটা বাজে রূপ নিয়েছিল।কেউ একজন আলো নিভিয়ে দিয়েছিল।উচ্চস্বরে গান বাজছিল।এবং কেমন করে যেন ঘরগুলো শান্ত হয়ে গিয়েছিল ।আমি দেখেছিলাম বেশির ভাগ মানুষ জোড়া বদ্ধ,দেখেছিলাম মারিয়া ফার্নান্দ মেঝেতে দুইজন পুরুষের মাঝখানে শুয়ে আছে।আমি দেখেছিলাম লম্বা সোনালি চুলের একজন লোক চেয়ারে বসেছিল।প্রথমে কেবল বসেই ছিল সে।একটু পর বমি করা শুরু করে।কেউ একজন পিঠে চাপড় দিচ্ছিল আর তাকে বলছিল, “আরে তোর কি হয়েছে? গ্রস তুই ঠিক আছিস?” এবং একজন মাতাল লোকের কামুক হাতের স্পর্শ পাওয়ার আগ পর্যন্ত আমি শুধু শুধুই সেখানে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করেছিলাম।মনে হচ্ছিল আমি সারা জীবন ধরে,বহুদিন ধরে জোসেফাকে খুঁজছি।তাকে খোঁজার আর মাত্র তিনটা ঘর বাকি ছিল।আমি প্রথমে গোসলখানাগুলোতে খুঁজেছিলাম।প্রথম দরজায় কড়া নাড়তে কেউ একজন আমাকে টেনে ভেতরে নিয়ে গিয়েছিল।সেটা ছিল বয় জর্জ এবং আর একটা লোক।সে বলেছিল দেখো আমরা কিভাবে চুমু খাই।আমি দেখেছিলাম এবং তারপর বয় জর্জ আমাকে চুমু খেয়েছিল।সে আমার মুখ বিড়ালের মতো চেটেছিল।আমি নিজেকে বাঁচাতে বাঁচাতে বলেছিলাম, “আমি ভেবেছিলাম তুমি একজন সমকামী”।সে হেসেছিল।তার লাল লিপস্টিক আমার মুখে ছড়িয়ে গিয়েছিল আমার থুতনিতে আমার গালে সবখানে ছিল লাল রঙ।অনেকক্ষণ মোছার পর যখন আমি আমার হাতের দিকে তাকিয়ে ছিলাম সেখানে লাল রঙ ছিল।আমি পরবর্তী ঘরে গিয়েছিলাম।সেখানে তিন ভাইয়ের এক ভাই একা বসেছিল।সেই টেকো জন।সে আমার দিকে কিছু একটা এগিয়ে দিয়েছিল একটি রূপালী পেয়ালা।বলেছিল, “এটা পান কর”। আমি তা করেছিলাম।সে আমার মুখে সেই পেয়ালাটা ধরেছিল তাই আমাকে গিলতে হয়েছিল।আমার মনে আছে আমি বলেছিলাম, এহহহহ!এবং সে বলেছিল “এটা হচ্ছে এমন একটা স্কচ যা টাকা দিয়েও পাবে না।তুমি কিচ্ছু জানো না দেখছি।” কিন্তু আমি জানতাম,আমি জানতাম সেটা ছিল একদম বাজে কিছু।আমি তাকে সেখানে ফেলে পরের ঘরে গিয়ে সেই ঘরের দরজা আস্তে আস্তে খুলেছিলাম।জোসেফা মাঝখানে শুয়েছিল আর ছোটভাইটা তার উপর উঠে কি যেন করছিল। আমি জোসেফার গোঙ্গানি শুনতে পাচ্ছিলাম।ভাবছিলাম,সে কি ঠিক আছে?আমি ঘরের ভেতর ঢুকেছিলাম।কিন্তু সে জোসেফার হাত পুলিশের মতো উঁচিয়ে বলেছিল, “হ্যাঁ সে ঠিক আছে।দরজা ভেজিয়ে যাও।”জোসেফা বলছিল,উমমম। আমি বুঝতে পারছিলাম না কি করব, বুঝতে পারছিলাম না কি হচ্ছিল।তাকে দেখে মনে হচ্ছিল তার যত্নই নিচ্ছে ছেলেটা, তাকে দেখেই রাখছিল সে।কিন্তু সেখানে অনেক অন্ধকার ছিল।হল রুম থেকে অল্পই আলোতে কিছু দেখা যাচ্ছিল না।আমি শুনেছিলাম সে কাঁদছিল না।সে আমার নাম ধরেও ডাকে নি।ছোট ভাইটি বলেছিল, সে ভালো আছে।
আমার পাশে যে বসে আছে, যে আমাকে পরিষ্কার গ্লাস এনে দিল, সে আমার স্বামী।আমি তার কাছে একটা বাড়ি বিক্রি করেছিলাম এভাবেই আমাদের পরিচয় হয়েছিল।আমি কোমর বেঁধে নামা ব্যবসায়ী, হাই হীল পায়ে কাঠের মেঝের বুকে ব্যথা দিয়ে, উচ্চস্বরে ছন্দ তুলে হেঁটে যাওয়া ব্যবসায়ী।আমি ওয়েস্ট এলো এ এর প্রাসাদের মতো বড় একটা বাড়ি তার কাছে বিক্রি করেছিলাম।যেখানে আমি স্কুল জীবন কাটিয়েছি।আমি এমন একজন আজব মানুষ যে বেড়ে উঠেছি লোকজনের কাছে তাদের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ঘরের বাড়ি বিক্রি করার জন্য।আমি তার বন্ধুর একটা চিলেকোঠা বেচে দিয়েছি যা দশ বছর আগে থেকে পরিত্যক্ত ছিল।যেখানে পিঠ সোজা করা যায় না, আলো নেই ,পানি নেই।আমার স্বামী বলে বেড়াতে পছন্দ করে “আমার বউ রিয়েল এস্টেট জগতের মোঘল সম্রাট”।
গার্ট্রুড কেঁপে কেঁপে বলল, “আমি এখন শুতে যাব”।আসলেই তার সকালে উঠতে হবে সার্ফিং করার জন্য।সে তার কুৎসিত চশমা জোড়া নাকের ডগায় ঝুলিয়ে থামিয়ে রাখল।
তার মা বলল,
“আমরা তাকে জ্বালিয়েছি।তবে তার এটা জানা প্রয়োজন ছিল।”
“জানি জানি জানি।নিজেকে ধর্ষিত হতে দিব না।” এটা বলে সে একে একে সবাইকে জড়িয়ে ধরে বিদায় জানাল।সবার শেষে আমাকে বিদায় জানাতে আসল সে।আমি তার কনুই ধরে টান দিয়ে বললাম, “আশা করি তুমি তোমার বাবা মায়ের কথা শুনছো।মানে আমি বলতে চাচ্ছি সত্যিকারের মেনে চলা।”
“আমি শুনেছি সব সময়।শুনিনি?”
তার ঠোট উপরের এক কোনে বেঁকে গেল।আমি মনে মনে বলি,”ফাজিল মেয়ে। তোমাকে যেমনটা দেখা যায় তুমি তেমনটা নও।তোমার ভালো হোক।”
তারপর তার মুখ আবার গম্ভীর হয়ে গেল।টানা চোখে নেমে এলো নরম সরলতা।সে তার ঘরের দিকে হেঁটে গেল, সিঁড়ি ভেঙ্গে উপরে উঠল।এমন একটা ঘর সেটা যেখানে সব কিছু সাদা,যেখানে মনোরম বাতাসে দোল খায় সাদা পর্দা।
বিঃদ্রঃ অনুবাদটি ভোরের পাতা দৈনিক পত্রিকার চারুপাতা বিভাগে ১৪ই মে ২০১৭ সালে প্রকাশিত।
ডেনা জনসন
অনুবাদ: রাবেয়া রব্বানী
আমরা সবাই আগুনের কুণ্ডলীর চারপাশে বসে কিভাবে ধর্ষণ থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায় তা নিয়ে কথা বলছি।আমরা উপদেশ দিচ্ছি।আমাদের মতামত আছে,চাইলে নির্দেশনাও দিতে পারি,কেননা আমরা প্রাপ্ত বয়স্ক এবং গার্ট্রুড এখনো বাচ্চা মেয়ে।আমরা সবাই কলেজ পার করেছি বহু আগে।তাই আমরা ভালভাবেই জানি কি বলছি না বলছি।
গার্ট্রুড অন্যরকম মেয়ে।সে তার গ্রাজুয়েশন উপলক্ষে ছুটি কাটাতে এসেও আমাদের কথা রাত জেগে শুনছে।বাধ্যগত মেয়েরা যেমন হয় সে ঠিক তেমন।কাউকে চোখ রাঙ্গিয়ে কথা বলতে জানে না।বড়রা যখন তার সাথে কথা বলতে যায় তখন তাকে মোবাইল নিয়ে গুঁতোগুঁতি করতে দেখা যায় না। না!তাকে কখনো বাজে কথা বা গালাগাল করতে শোনা যায় না।“যে যা ভাবুক” শব্দটা তার অভিধানে নেই।সে মানিয়ে চলতে জানে এবং ভদ্রও বেশ।তাই তার বাবা মায়ের মুখে সব সময় এই কথাটা শুনতে পাওয়া যায়, “ও যা যা পায় সবই ওর প্রাপ্য।” হ্যাঁ!মেয়েটা পায়ও বাবা!যখন যা চায় তাই তার সামনে হাজির করা হয়।সে বিশ্বাস করে সব কিছু তার জন্যই।প্রিয়াস ব্রান্ডের গাড়িটা তার জন্যই কেনা,বাড়িটাও তার বাবা-মা তার জন্যই কিনেছে যাতে কলেজে উঠার পর সে সেখানে থাকতে পারে।এই যে সান-ডিয়েগোতে এই ছুটিতে ঘুরতে আসলাম সবাই মিলে, এটাও তার জন্য।কোন ছাতার সংবাদ পত্রে যেন সে এই বাড়িটার ছবি দেখেছিল আর ওমনি আবদার আর সেই আবদার রক্ষায় সবার কী দৌড়ঝাঁপ!এই যে আগুনের চারপাশে বসে ধর্ষণ থেকে নিজেকে করার রক্ষা করার কৌশল সম্পর্কে আলোচনা করছি ,এই মুহূর্তের এত এত বক্তৃতা সবই এই মেয়েটির জন্য।
গার্ট্রুডের চাচা এবং আমার স্বামী প্রায়ই আমাকে বলে, “ওর ব্যাপারে তোমার এত জ্বলে কেন?”
আমার স্বামী বলে এটা স্বাভাবিক না।তার ধারণা এর প্রধান কারণ হচ্ছে আমি মধ্য বয়স্কা।আমি হয়তো তার মেদহীন পেট এবং বয়সের ছাপহীন চোখকে হিংসা করি।তার নিয়ম ভাঙ্গার ক্ষমতাতে জ্বলে যাই।আমার স্বামী বলে “এটা টিন এজ মেয়ের প্রতি তোমার এক রকম হিংসা।তুমি ভেবে দেখো ব্যাপারটা ভালো করে।”
আর তারপর আমি চোখ পাকিয়ে বলি,
হলে হবে।তোমার কি?
ধর্ষণ সম্পর্কে এখন কথা বলা যাচ্ছে কেননা তার ছোট ভাই বোন এখন উপর তলার বাচ্চাদের ঘরে ঘুমাচ্ছে।তাদের ছাদ আর দেয়াল তারায় মোড়া আর পুরো মহাবিশ্ব তাদের হাতের মুঠোয় বন্দি।
এটা দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া।এখানে দিনে গরম এবং শীত।আগুনের কুণ্ডলীটা উঠানের মাঝে তৈরি করা হয়েছে।সেটা সান ডিয়েগো সমুদ্রের দিকে আগুনের ফুলকি উড়াচ্ছে।কুয়াশার কারণে সমুদ্র আমরা এখান থেকে কেউ দেখতে পাচ্ছি না।আমরা শুনতে পাচ্ছি বিশাল বিশাল অনুভূতির মত বিশাল বিশাল ঢেউ এসে গর্জন করছে, তীরে এসে আছড়ে পড়ছে।ঢেউ আছড়ে পড়ার শব্দ প্রথমে “ধরাস” হয় তা থেকে একেবারে “হিসসস” এ পরিণত হচ্ছে।শব্দটা তেমন একটা জোরালো না হলেও চেষ্টা করলে ঠিক শোনা যায়।
গার্ট্রুডের বাবা এখন মাতাল তাই সে এখন তার ভাইয়ের মতো কথা বলছে। সে বলল,
“কিছু ছেলে-ছোকরা তোমার সাথে ঘেঁষা-ঘেঁষি করতে চাইবে বুঝলে? তোমার বুঝতে হবে কি করা উচিত কি করা উচিত না”।
গার্ট্রুড তার মাথা নাড়ল।লাল পনিটেল দুলিয়ে দুলিয়ে বলল,
“আমি জানি।তুমি আমাকে বিশ্বাস করতে পারো।”
তার মা বলল
“শয়তানগুলো তোমার শরবতের পেয়ালায় কিছু মিশিয়ে দিতে পারে।যেমন তারা উপরে উপরে করোনা বিয়ারের মগ গ্লাসে গ্লাসে ঠুকে উল্লাস জানাবে।আসলে তারা তোমাকে রুফি ড্রাগস দিবে”।
তার চাচা ও আমার স্বামী বলল,
“কোন অবস্থাতেই কোন ফালতু ছেলেকে তোমার জন্য পানীয় কিনতে দিবে না।নিজের পানীয় নিজে কিনে খাবে।তাকে বলবে তোমার কাছে যা টাকা আছে তাতে তুমি তাকেই উল্টো পুরো এক বছরের পানীয় কিনে দিতে পারবে।তুমি জানো কেন?”
“আমি জানি ।মা বলেছে।”
আমি বললাম,
“তোমকে আসলেই অনেক অনেক সতর্ক থাকতে হবে।কেউ কখনো আমাকে রুফি দিতে সাহস করেনি।আমার পরিচিত কেউও নয়।আমি কোন নেশাগ্রস্থ গাধার সাথে কথা বলিনি।কখনো এমন কাউকে বিশ্বাস করবে না যে বলবে সে তোমার খুব খেয়াল রাখবে।এদের দশজনের মধ্যে নয়জনই ভুয়া”।
যেহেতু গার্ট্রুড কলেজে যাচ্ছে তাই সবাই যার যার স্মৃতি ঝালিয়ে নিতে চাইল। তার বাবা তার স্কুল জীবনে খুব দুরন্ত ছিল।মাতাল হয়ে গাড়ি চালানো থেকে মেয়েদের সাথে ঝোলাঝুলি থেকে আজেবাজে কাজ কম করে নি।তাই সে তার মেয়েকে বারণ করে এরকম কাজ কখনো যাতে না করে। তার মা ছাত্র সংগঠনে জড়িত ছিল।শান্তি ও সুবিচারের পক্ষে ছিল সে।আজ রাতটা তার সেই সময়ের স্মৃতি উশকে দিয়েছে।আর আমার জন্য কলেজ-জীবন অনেক উচ্চমূল্যের ছিল।আমি যা যা চাইতাম তা পেতাম না।গার্ট্রুড আমাকে জিজ্ঞেস করল,
“তোমার কলেজ জীবনের সবচেয়ে প্রিয় বিষয় কি?”
আমি বললাম,
“আমাকে কয়েক মিনিট ভাবতে সময় দাও”
তারপর আমি আগুনের চারপাশে বসা সবগুলো মানুষের মুখের দিকে তাকালাম।কেমন জানি ভুতুড়ে পরিবেশ।আর কুয়াশার কথা কি বলব!দূর থেকে ঘন দেখা গেলে কি হবে, এটা ফিনফিনে।আমাদের চারপাশে স্থির হয়েও নেই। কাছ থেকে অদৃশ্য এবং তা কাছাকাছি বসা আমাদের মুখ কোনমতেই আড়াল করতে পারছে না।
আমার স্বামী কিছুক্ষণ পর বলল,
“সে গান খুব পছন্দ করত।”
যদিও সে আমাকে তখন চিনত না তবে সে ঠিক বলছে।আমি ভুলে গিয়েছিলাম।
গার্ট্রুড বলে উঠল,
“আশির দশকের স্টাইলই সেরা।”
সে আসলেই আশির দশকের সেই কচ্ছপের খোলের ছাপ দেয়া বিশ্রী চশমাটা পরে আছে।এটা আমিও পড়তাম সেসময়।আমার অবশ্য অন্য কোন উপায় ছিল না তাই পরতে হতো।কেবল এই চশমাটা পড়ার সামর্থ্যই আমাদের ছিল।আমার ও জোসেফার।জোসেফা আমার সবচেয়ে প্রিয় বান্ধবী।আমাদের সেই চশমাটা কেনার সামর্থ্য ছিল না যেটা মুখে একেবারে সেঁটে থাকত।ঠিক বাইনোকুলারের মতো ছিল যেটা।আমরা যেমন মেয়ে ছিলাম তাদের তারা বলা হয় “আজব”।এযুগে এটা কিছুটা প্রশংসনীয় শব্দ হলেও তখন সেটা তেমন কোন ভালো উপাধি ছিল না।আমরা জানতাম না আমরা কে।আমি ও জোসেফা।যে জোসেফা কলেজে যেতে চাইতো না কিন্তু তার আমার সাথে কলেজে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল।আমি স্কুল পরীক্ষায় পাশ করেছিলাম।এখনকার মতো নির্বাচিত কলেজে না,তখন আমি সকল কলেজের ফরম পূরণ করেছিলাম।আমার বাবা মাও সহায়তা করেছিলেন।জোসেফা এ নিয়ে ঝোলাঝুলি করে নি।সে বলেছিল, “আমার কখনোই ভর্তি হওয়া হবে না।” যেহেতু আমি পাশ করেছিলাম আর সে পাশ করে নি।আমি তাকে বলেছিলাম, “সপ্তাহ শেষে চলে এসো।”
সে বলেছিল, “পারব না।ধুর।আমাকে কাজ করতে হবে। কিন্তু এক রাতে আমি তোমার ঘাড়ে এসে চাপবো ঠিক।”
তাই সে একদিন এসেছিল।
আমি জোসেফাকে দেখাতে চাচ্ছিলাম সে কোন কোন জিনিস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং কি কি তার প্রাপ্য ছিল।কিন্তু সে যখন এসেছিল আমার মতো তারও কিছু ছিল না ।একটা প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগে তার কিছু জামা কাপড় ছাড়া সে কিছু নিয়ে আসে নি।ঠিক স্টিন ব্যাকের উপন্যাসের হোবোর মতো। হোবোর মতো তার হাতে শুধু লাঠিটাই ছিল না।সে সান গাব্রিয়াল ভেলী থেকে এসেছিল।সেখানে সে মুদী সদাইয়ের প্যাকেট করার কাজ করতো আর বাজারের গাড়ি ঠেলত।আমার চাকরীটাও তেমন যুতের ছিল না।লোকজনকে গিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করতাম, তারা আলু ভাজা খাবে কিনা। তখনও জোসেফার চেয়ে আমার রুচি-বোধ সূক্ষ্ম ছিল। অন্তত এটা বুঝতাম এমন একটা চাকরী বেশিদিন করা যাবে না।যাই হোক যখন জোসেফা দরজায় ঘণ্টি বাজিয়েছিল আমি রুমমেটদের সাথে সে এপার্টমেন্টে থাকতাম সেখানে তখন ব্যস্ততা শুরু হয়ে গিয়েছিল।হল রুমে মানুষ-জন ভরে গিয়েছিল।মারিয়া ফার্নান্দ তার সোফায় বসে তার ক্যাসেট প্লেয়ারে রিক জেমস এবং আর ই এম বাজাচ্ছিল।মারিয়া ফার্নান্দ।যাকে প্রথমবার ভুল করে মারিয়া ডেকেছিলাম বলে সে বলেছিল, “এক সাথে বল।দুই নাম একসাথে করে আমাকে ডাকবে।”
আমি সেটাকে মারিয়া ফার্নান্দার সোফা বলছি বলছি কারণ সেটা তার সোফাই ছিল। এপার্টমেন্টের সাথে যে পুরনো সবুজ সোফাটা ছিল,যেটা দিনের পর দিন ছাত্রছাত্রীদের পশ্চাৎ-ভাগের ঘষা খেয়ে এসেছিল সেটাকে সে বসার উপযোগী ভাবেনি।আমি যেদিন বাসাটায় উঠেছিলাম তার একদিন পরই সে উঠেছিল সেখানে।লম্বা,ঝাঁকরা চুল আর সোনালী বালা পরা মেয়েটা।সোফাটার দিকে তাকিয়ে সে দাঁতে জিভ চুকচুক শব্দ করেছিল, “কি জঘন্য!”খুব সুন্দর ইংরেজিতে সে উচ্চারণ করছিল।দা থ্রি স্টুজেজ টিভি সিরিয়াল থেকে সে এভাবে কথা বলা শিখেছিল।দুই দিন পর সেই মলিন সোফাটার বদলে সে সময়ের কেতাদুরস্ত সাদা সোফাটা চলে এসেছিল।আমি সেখানে কখনো বসি নি।
মারিয়ার অতিথির সেখানে এভাবে বসেছিল যেন সেটা তাদেরই বাড়ি।আমি তাদের রান্নাঘর থেকে দেখছিলাম আর মুখের ভেতর চিতোস চিপস ঠুসছিলাম।বয় জর্জের মতো একটা লোক ছিল সেখানে।সে সময়ে একটা উপন্যাসে এমন চরিত্র ছিল মনে হচ্ছিল সেটা বাস্তবে দেখতে পাচ্ছি।একজন মানুষ যে একি সাথে মহিলা ও পুরুষ।যার মাথায় নানান রঙের জট।কালো মানুষদের চুল যেমন হয় তেমন।আমি জোসেফাকে দেখতে পাব বলে খুশী হয়েছিলাম।কিন্তু বুঝতে পারছিলাম না সে সঠিক ভাবে পথ চিনে আসতে পারবে কিনা।সব এপার্টমেন্টই দেখতে একি রকম ছিল প্রায়।একি রাস্তার উপর রোদে পোড়া ,ওটমিল রঙ্গা সার সার দাঁড়িয়ে।তাই আমি দরজার চেরা অংশের ফাটল দিয়ে বাইরে উকি দিচ্ছিলাম।সে এসে ভেতরে ঢুকেছিল এবং তাদের দিকে তাকিয়ে ছিল।তার দৃষ্টি বয় জর্জের উপর গিয়ে পড়েছিল।ঠিক যেভাবে গ্রাম্য মানুষেরা শহুরে মানুষ দেখে সেভাবে তাকিয়ে ছিল সে এবং এটা সত্য আমাদের পার্বত্য অঞ্চলে আমরা এমন মানুষ কখনো দেখিনি।কেননা আমাদের অভিভাবকরা কষ্ট করে আমাদের বড় করতেন।তারা চাইতেন না আমরা দেখতে প্রথা বিরোধী হই।জোসেফা তাদের দিকে তাকিয়ে হাত নেড়েছিল তারপর তাড়াতাড়ি তাদের অতিক্রম করে রান্নাঘরের মেঝেতে প্ল্যাস্টিকের ব্যাগটা হাত থেকে নামিয়ে রেখেছিল।তার মাথায় সে লাল ফুল তোলা ব্যান্ডটা ছিল,কোঁকড়া চুলের কারণে তার অনেকটাই ঢাকা পড়ে গিয়েছিল।আমি তাকে জড়িয়ে ধরে আমার ঘরে নিয়ে গিয়েছিলাম।আমার ঘরে তেমন আসবাব ছিল না।ছিল একটা বাজে খাট আর কাঠের পরত উঠে যাওয়া বাদামী একটা টেবিল, আর ছিল ইংল্যান্ডের কোন এক ইটের তোরণের পাশে দাঁড়ানো স্মিথের একটা পোষ্টার।আমি জোসেফার প্ল্যাস্টিকের ব্যাগটা আমার জিনিসপত্রের মধ্যে সাবধানে আড়াল করে রেখেছিলাম।ময়লা পোশাকের ঝুড়ির ঠিক পেছনে।কেননা এমন এক জায়গায় আমাদের জন্ম হয়েছিল যেখানে সাবধানী না হলে লোকে ভালো ভাবে নিত না।
“তুমি এলে তবে”
আমি বলেছিলাম,
জোসেফা মাথা নেড়েছিল, “সেই সোফাটা। আচ্ছা সেটা কতদিন আর সাদা থাকবে?”
আমি কাঁধ ঝাঁকিয়ে, চোখ পাকিয়ে বলেছিলাম, “আরে একটা নষ্ট হলে আর একটা আনবে ও।”
আমি বলতে যাচ্ছিলাম যে, “আমার রুমমেট কত বোকা কিভাবে টাকা নষ্ট করছে।” এটা না বলে বরং আমিও ফুটানি করেছিলাম।
জোসেফা একটু গোছগাছ করে, তার মাথার লাল ব্যান্ড উঁচিয়ে, পিঠ সোজা করে বলেছিল, “চল বয় জর্জকে দেখে আসি।”
গার্ট্রুডের বাবা বলল,
“আমরা সবাই তোমাকে নিয়ে গর্বিত। তুমি কখনো আমাদের সমস্যায় ফেলোনি।”
তার মা বলল, “তুমি এমন একটা সন্তান যে যেকোনো জায়গায় যেতে পারে।প্যারিস, মরক্কো।”
সে আমার দিকে তাকাল।আর আমার স্বামী বলল,
“গার্ট্রুড মায়ের মতো হয়েছে।এই বাসাটা দেখো। কত সুন্দর তাই না?একটা ছুটি কাটানোর মতো বাড়ি।এটা এমন, ঠিক যেমনটা আমি চাই।গ্রাজুয়েশনের খুশিতে দুই সপ্তাহের জন্য এই বাড়ীটায় সবাই মিলে থাকতে চাওয়া ওর বয়সী মেয়ের জন্য অবিশ্বাস্য।অন্য ছেলে-পেলে হলে আকাশের চাঁদই চেয়ে বসতো।সে এতকিছু চায় নি।কেবল সান-ডিয়েগোতে আসতে চেয়েছে।বাড়ি থেকে মাত্র ছ-ঘণ্টার পথ।”
আমি আমার স্বামীর দিকে তাকালাম।সে কথাগুলো বলার সময় আমার দিকে খুব সতর্ক ভাবে তাকিয়ে ছিল।কিন্তু আমার চেহারা?আমার চোখ তাকে কিছুই বলেনি।
সে জিজ্ঞেস করল,
“তুমি কি আর একটু শ্যাম্পেইন খাবে?”
কলম্বোবাসীরা আসবে বলেই আমি সেই সপ্তাহ শেষের ছুটিতে জোসেফাকে আসতে বলেছিলাম।আমি তাকে কথা দিয়েছিলাম।যারা এসেছিল তারা ছিল মারিয়া ফার্নান্দার চাচাতো ভাই।মারিয়া এমন একজন যাকে আমি কখনো কলেজ জীবনে কল্পনা করিনি।এরকম মানুষকে কখনো জানা যায় না।সে কখনোই আশেপাশে থাকত না, কেবল যখন বাড়িতে হই-হল্লা,নাচ, মদ্যপান আর উচ্চস্বরে কথা বার্তা হতো তখন তাকে পাওয়া যেত।মারিয়া ফার্নান্দ আমার উপর বিরক্ত হতো আমি বুঝতাম। সে যে সব বিষয়ে কথা বলতে পছন্দ করতো আমি তার কিছুই জানতাম না।যে সব জায়গায় সে গিয়েছিল আমি সেখানে যাই নি।বরফে স্কী কিংবা নদীতে ভেলায় চড়ে ঢেউয়ে দোল খাওয়া।আমি কি আর এসব করেছিলাম কখনো?ছোট রাবারের নৌকায় চড়ে বড় বড় ঢেউয়ের উপর চড়ে বেড়ানো?মলিন সোফা চাইতেই বদলে ফেলা? তখন সে একটা উৎসব করতে তার ভাইদের দাওয়াত করেছিল।আমি যাদের ছবি দেখেছিলাম।তিনজনই দেখতে সুদর্শন ছিল।একটি ছবিতে দেখেছিলাম, একটি রূপালী কাঠামোতে তারা একটা পিরামিড বানাতে চাচ্ছিল কিন্তু তা হতে পারেনি।ছোট ভাইটি উপর থেকে পড়ে যাচ্ছিল এবং তাদের সবার গালেই টোল পড়া হাসি ছিল।আমি চাচ্ছিলাম জোসেফা সেখানে থাকুক।আমি চাচ্ছিলাম জোসেফা কলেজ জীবনের প্রেমে পড়ুক।আমরা আমাদের মায়েদের মতো হতে চাই নি।তাদের মতো চাকরী ধরে রাখতে মরিয়া হওয়া,একাধিক বাচ্চা নেয়া।আমাদের মায়েদের কথা শুনলে মনে হতো পুরুষদের পেতে হলে যুদ্ধ করতে হবে।
আগুনের কুণ্ডলীটা হঠাৎ উশকে উঠল। আমি ভয় পেলাম।কিন্তু বুঝতে পারলাম আমার পিছনে আমার স্বামী ,সে নিজেই আগুনকে আরও প্রজ্বলিত করতেই এসেছে।
তার ভাই বলল।
“বেশি হয়ে গেছে নাকি রে? কত আগুন আমাদের লাগবে আর?”
আমার স্বামী বলল, ঠিক আছে।
তার রিডিং গ্লাস তার সামনের দিকের পাতলা চুল হয়ে নাকে এসে পড়তে সে বাঁকা হাসি হাসল।
আমি দেখছি আগুন আরও লম্বা হয়ে দৈত্যের মতো নাচছে।
ম্যাডাম।
আমার স্বামী একটা পরিষ্কার গ্লাসে করে শ্যাম্পেন দিয়ে গেল।প্রথম গ্লাসটা সে নিয়ে গেল কারণ তাতে আমার আঙ্গুলের ছাপ আছে।আমার একটা অভ্যাস যে আমি একটু পর পর একটা পরিষ্কার গ্লাস চাই।আমি আমার দ্বারা নোংরা করা কিছু বা গ্লাসে লিপস্টিকের দাগ দেখতে পছন্দ করিনা।আমি চাইনা এগুলো অন্যে দেখুক।
গার্ট্রুড কম্বলে মুড়ে আছে।দেখেই বুঝা যাচ্ছে পরিষ্কার করে ধোঁয়া কম্বলটা।চশমার কাচের ভেতর দিয়ে তার মা আগুনের দিকে তাকিয়ে আছে।আমরা সবাই তাকিয়ে আছি।আগুন এমন কেন? আমাদের তাকাতেই হয় কেন তার দিকে?আমরা সবাই চুপ হয়ে গিয়েছি।এটা হয়ত বিয়ার,মদ এবং হুইস্কির প্রভাব।কিংবা এটা কুয়াশার কারণে।গার্ট্রুড হাই তুলে বলল,“কেউ একটা ভুতের গল্প বল না?”তারপর তার বাবা চালকের গল্পটা বলে।আমরা সবাই তা শুনেছি।কিন্তু এটা এমন একটা গল্প যা সবাই শুনেছি কিন্তু কেউই ঠিকঠাক মনে রাখতে পারিনা ।যেখানে আপনার মনে হবে একজন চালক মানুষকে গাড়িতে নিয়েছে কিন্তু আসলে সে একটা ভূত।এবং ভুতকেই বারংবার নিচ্ছে সে।আহ এটা শোনার পর কে অপরিচিত লোক তার গাড়িতে নেবে?
তারা ছিল তিন ভাই। উচ্চতার ভিত্তিতেও পরপর তিনজন। তারা সব সময়ই সব অনুষ্ঠানেই ওভাবে দাঁড়াতো।বড় থেকে মাঝারি তারপর ছোট।লম্না জন টেকো, লম্বা নাকের অধিকারী।মধ্য জনের হাত অতিরিক্ত নরম, ছোট এবং আদ্র।আমার হাত ঝাঁকানোর সময় আমি বুঝেছিলাম।সবচেয়ে ছোট যে, তার চোখ সবুজ।আর হাত একদম সঠিক উচ্চতা, আর্দ্রতার এবং সঠিক সহনীয় মাত্রার সুঠাম।রান্নাঘরের যেখান থেকে আমি তাদের খেয়াল করছিলাম আমি বুঝতে পারছিলাম সে জোসেফাকে পছন্দ করেছে।সে জোসেফাকে খেয়াল করছিল।আর জোসেফা সে খাবারের মতো একের পর এক জেলো ফ্লেবারের এলকোহল পানীয় পান করে যাচ্ছিল।তখন আমি জানতাম না সেটা কি?কিন্তু এখন জানি সেগুলো খাওয়া ঠিক না।
সে যখন রান্নাঘরে পানি খেতে এসেছিল।আমি তার হাত মুচড়ে দিয়ে বলেছিলাম, “তোমার কি ছেলেটাকে ভালো লেগেছে?”আমি চাচ্ছিলাম তার ভালো লাগুক।আমি তার দিকে ভ্রূ উঁচিয়ে হেসেছিলাম।তার ভালোর জন্যই চাচ্ছিলাম সে যেন ছেলেটাকে পছন্দ করে।জোসেফা বলেছিল,“সে দেখতে খুব সুন্দর।হ্যাঁ,আমার মনে হয় আমি তাকে পছন্দই করেছি।সে একজন ডক্টর হতে চায়।”
“বাহ!তুমি মেক্সিকান আর সে কলোম্বিয়ান।দারুণ তো।জোসেফা আমার দিকে তাকিয়ে হেসে বলেছিল, তোমার কি মনে হয় এ দু দেশের মানুষের কোন মিল আছে?” সে যখন হেঁটে ফিরে যাচ্ছিল আমার দিকে ফিরে তাকিয়ে হেসেছিল।কিছু দূরে গিয়ে তার আঙ্গুল সযত্নে একটি সাদা দেয়ালে ছন্দ তুলেছিল।আমি তখন দিব্য চোখে যা যা দেখেতে পাচ্ছিলাম তা হল, স্কী ভ্রমণ, নদীতে ভেলায় করে ঢেউয়ে ভাসা, সীমান্তবর্তী শহরে লম্বা কাঠের টেবিলে অভিজাত রাতের খাবার।বাতাসে টেবিল-ক্লথের উড়তে চাওয়া।আমি আরও অনেক কিছু দেখছিলাম যার কোন অস্তিত্ব বাস্তবে ছিল না।
কিছুক্ষণ পর রাতটা বাজে রূপ নিয়েছিল।কেউ একজন আলো নিভিয়ে দিয়েছিল।উচ্চস্বরে গান বাজছিল।এবং কেমন করে যেন ঘরগুলো শান্ত হয়ে গিয়েছিল ।আমি দেখেছিলাম বেশির ভাগ মানুষ জোড়া বদ্ধ,দেখেছিলাম মারিয়া ফার্নান্দ মেঝেতে দুইজন পুরুষের মাঝখানে শুয়ে আছে।আমি দেখেছিলাম লম্বা সোনালি চুলের একজন লোক চেয়ারে বসেছিল।প্রথমে কেবল বসেই ছিল সে।একটু পর বমি করা শুরু করে।কেউ একজন পিঠে চাপড় দিচ্ছিল আর তাকে বলছিল, “আরে তোর কি হয়েছে? গ্রস তুই ঠিক আছিস?” এবং একজন মাতাল লোকের কামুক হাতের স্পর্শ পাওয়ার আগ পর্যন্ত আমি শুধু শুধুই সেখানে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করেছিলাম।মনে হচ্ছিল আমি সারা জীবন ধরে,বহুদিন ধরে জোসেফাকে খুঁজছি।তাকে খোঁজার আর মাত্র তিনটা ঘর বাকি ছিল।আমি প্রথমে গোসলখানাগুলোতে খুঁজেছিলাম।প্রথম দরজায় কড়া নাড়তে কেউ একজন আমাকে টেনে ভেতরে নিয়ে গিয়েছিল।সেটা ছিল বয় জর্জ এবং আর একটা লোক।সে বলেছিল দেখো আমরা কিভাবে চুমু খাই।আমি দেখেছিলাম এবং তারপর বয় জর্জ আমাকে চুমু খেয়েছিল।সে আমার মুখ বিড়ালের মতো চেটেছিল।আমি নিজেকে বাঁচাতে বাঁচাতে বলেছিলাম, “আমি ভেবেছিলাম তুমি একজন সমকামী”।সে হেসেছিল।তার লাল লিপস্টিক আমার মুখে ছড়িয়ে গিয়েছিল আমার থুতনিতে আমার গালে সবখানে ছিল লাল রঙ।অনেকক্ষণ মোছার পর যখন আমি আমার হাতের দিকে তাকিয়ে ছিলাম সেখানে লাল রঙ ছিল।আমি পরবর্তী ঘরে গিয়েছিলাম।সেখানে তিন ভাইয়ের এক ভাই একা বসেছিল।সেই টেকো জন।সে আমার দিকে কিছু একটা এগিয়ে দিয়েছিল একটি রূপালী পেয়ালা।বলেছিল, “এটা পান কর”। আমি তা করেছিলাম।সে আমার মুখে সেই পেয়ালাটা ধরেছিল তাই আমাকে গিলতে হয়েছিল।আমার মনে আছে আমি বলেছিলাম, এহহহহ!এবং সে বলেছিল “এটা হচ্ছে এমন একটা স্কচ যা টাকা দিয়েও পাবে না।তুমি কিচ্ছু জানো না দেখছি।” কিন্তু আমি জানতাম,আমি জানতাম সেটা ছিল একদম বাজে কিছু।আমি তাকে সেখানে ফেলে পরের ঘরে গিয়ে সেই ঘরের দরজা আস্তে আস্তে খুলেছিলাম।জোসেফা মাঝখানে শুয়েছিল আর ছোটভাইটা তার উপর উঠে কি যেন করছিল। আমি জোসেফার গোঙ্গানি শুনতে পাচ্ছিলাম।ভাবছিলাম,সে কি ঠিক আছে?আমি ঘরের ভেতর ঢুকেছিলাম।কিন্তু সে জোসেফার হাত পুলিশের মতো উঁচিয়ে বলেছিল, “হ্যাঁ সে ঠিক আছে।দরজা ভেজিয়ে যাও।”জোসেফা বলছিল,উমমম। আমি বুঝতে পারছিলাম না কি করব, বুঝতে পারছিলাম না কি হচ্ছিল।তাকে দেখে মনে হচ্ছিল তার যত্নই নিচ্ছে ছেলেটা, তাকে দেখেই রাখছিল সে।কিন্তু সেখানে অনেক অন্ধকার ছিল।হল রুম থেকে অল্পই আলোতে কিছু দেখা যাচ্ছিল না।আমি শুনেছিলাম সে কাঁদছিল না।সে আমার নাম ধরেও ডাকে নি।ছোট ভাইটি বলেছিল, সে ভালো আছে।
আমার পাশে যে বসে আছে, যে আমাকে পরিষ্কার গ্লাস এনে দিল, সে আমার স্বামী।আমি তার কাছে একটা বাড়ি বিক্রি করেছিলাম এভাবেই আমাদের পরিচয় হয়েছিল।আমি কোমর বেঁধে নামা ব্যবসায়ী, হাই হীল পায়ে কাঠের মেঝের বুকে ব্যথা দিয়ে, উচ্চস্বরে ছন্দ তুলে হেঁটে যাওয়া ব্যবসায়ী।আমি ওয়েস্ট এলো এ এর প্রাসাদের মতো বড় একটা বাড়ি তার কাছে বিক্রি করেছিলাম।যেখানে আমি স্কুল জীবন কাটিয়েছি।আমি এমন একজন আজব মানুষ যে বেড়ে উঠেছি লোকজনের কাছে তাদের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ঘরের বাড়ি বিক্রি করার জন্য।আমি তার বন্ধুর একটা চিলেকোঠা বেচে দিয়েছি যা দশ বছর আগে থেকে পরিত্যক্ত ছিল।যেখানে পিঠ সোজা করা যায় না, আলো নেই ,পানি নেই।আমার স্বামী বলে বেড়াতে পছন্দ করে “আমার বউ রিয়েল এস্টেট জগতের মোঘল সম্রাট”।
গার্ট্রুড কেঁপে কেঁপে বলল, “আমি এখন শুতে যাব”।আসলেই তার সকালে উঠতে হবে সার্ফিং করার জন্য।সে তার কুৎসিত চশমা জোড়া নাকের ডগায় ঝুলিয়ে থামিয়ে রাখল।
তার মা বলল,
“আমরা তাকে জ্বালিয়েছি।তবে তার এটা জানা প্রয়োজন ছিল।”
“জানি জানি জানি।নিজেকে ধর্ষিত হতে দিব না।” এটা বলে সে একে একে সবাইকে জড়িয়ে ধরে বিদায় জানাল।সবার শেষে আমাকে বিদায় জানাতে আসল সে।আমি তার কনুই ধরে টান দিয়ে বললাম, “আশা করি তুমি তোমার বাবা মায়ের কথা শুনছো।মানে আমি বলতে চাচ্ছি সত্যিকারের মেনে চলা।”
“আমি শুনেছি সব সময়।শুনিনি?”
তার ঠোট উপরের এক কোনে বেঁকে গেল।আমি মনে মনে বলি,”ফাজিল মেয়ে। তোমাকে যেমনটা দেখা যায় তুমি তেমনটা নও।তোমার ভালো হোক।”
তারপর তার মুখ আবার গম্ভীর হয়ে গেল।টানা চোখে নেমে এলো নরম সরলতা।সে তার ঘরের দিকে হেঁটে গেল, সিঁড়ি ভেঙ্গে উপরে উঠল।এমন একটা ঘর সেটা যেখানে সব কিছু সাদা,যেখানে মনোরম বাতাসে দোল খায় সাদা পর্দা।
বিঃদ্রঃ অনুবাদটি ভোরের পাতা দৈনিক পত্রিকার চারুপাতা বিভাগে ১৪ই মে ২০১৭ সালে প্রকাশিত।
Monday, May 15, 2017
রাজনীতি
বাংলাদেশের গণতন্ত্রঃ হাসিনা, খালেদা, তারেক, জয় গণতান্ত্রিক চেতনার উৎস বিন্দু, বাকী সব- 'ভ' তে ও কার 'দ' তে আ কার এবং ই।
দেশে কি ধরণের গণতন্ত্র আছে সবাই জানি, খালিদার আমলেও এই গণতন্ত্রের হাল হকিকত যে আরও নাজুক ছিল তাও আমাদের কমবেশী জানা। ঐ সময়েই সরকারের প্যারালাল আরেক সরকার গড়ে উঠেছিল উত্তরের জনপদগুলোতে বাংলা ভাইর হাত ধরে সে স্মৃতি বেশীদিন আগের নয়।
এখন কথা হচ্ছে আমাদের শোষিত হতে হবে আওয়ামী যদুরাম কিংবা বিএনপি নামক কদুখানদের দ্বারা। কদুখানদের যে সাংগঠনিক শক্তি তাতে যদুরামদের ক্ষমতার মধুর হাড়ি থেকে মুখ সরানো তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়াবে।
ধরুন আরও ৭/৮ বছর আওয়ামী যদুরামরা ক্ষমতায় থাকবে যা অবস্থা দৃষ্টে নিশ্চিতই মনে হয়, আর যদি তাই হয় তাহলে কদুখানদের অবস্থা কি দাঁড়াবে? আমার এক বন্ধু যিনি কদুখান নেত্রীর একনিষ্ট ভক্ত সে বলল তার নেত্রীর এক পা কব্বরে আরেক পা কলার ছোবড়ায়, যে কোন মুহুর্তে চিৎপটাং। আল্লাহ না করুক যদি কদুখান নেত্রী এই ৭/৮ বছরের মধ্যে মারা যায় তাহলে বিএনপির নেতৃত্বের হাল কে ধরবে?
আসুন তার একটা সম্ভাব্য দৃশ্যপট নিয়ে আমাদের ছোট্ট একটা শর্ট ফিল্প দেখা হয়ে যাক। ২১ আগষ্টের সমাবেশে ঢাকাতে আওয়ামীলীগের সমাবেশে বোমা হামলা। ২৫/৩০ জন মানুষের রক্তাক্ত বিভীষিকাময় সেই মৃত্যু। খন্ডিত হাত, পা, মাথা এদিক সেদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবর, জজমিয়া নাটক। প্রহসনমূলক বিচারের নাটিকা। ১০ ট্রাক অস্র, অস্র লাপাত্তা।
- কি বুঝলেন?
এবার চলুন আওয়ামীলীগ আমলে ধৃত বাবরের বিচারিক কার্যক্রমে একটু চোখ বুলাই। আচ্ছা এই যে বাংলা ভাই, জঙ্গি এত মানুষের বিচার দেখে আপনারা অবাক হয়ে ভাবছেন না বাবরের বিচার কাজ সম্পন্ন হতে এত সময় লাগছে কেন? বাবরকে আপনারা জেল থেকে আদালতে যেতে আসতে কমবেশী সকলেই দেখেন। তাকে কি জীবন্ত মানুষ মনে হয়? বলুনতো বাবর এই রকম জীবন্মৃত অবস্থায় কতদিন থাকবে?
আপনাদের একটা সরল সমীকরণ এঁকে দেই, বাবর ততদিন এরকম অর্ধ্মৃত অবস্থায় থাকবে যতদিন হাসিনা তাকে সে অবস্থায় রাখার প্রয়োজন বোধ করেন। বাবর হাসিনার তুরুপের তাস, তুরুপের ছোট বড় তাস আরও আছে সে আলোচনা অন্য সময়েও করা যাবে। ১৯৮১ সাল, প্রবল ঝুঁকি নিয়েও হাসিনা দেশে ফিরেছিলেন সেই সামরিক সরকারের আমলেও। হাসিনার গণতান্ত্রিক বা তথাকথিত বা যাই হোক তারেক দেশে ফেরার সাহস করছেন না, কিন্তু কেন? বিএনপি যারা করেন তারা থেকে শুরু করে তাদের উপদেষ্টাসহ সকলেই জানেন ২১ শে আগষ্টের বোমা হামলায় তারেকের সরাসরি জড়িত থাকার তথ্য প্রমাণ বেশ ভালোই আছে বর্তমান সরকারের হাতে। আর সাক্ষী হিসেবী রেডি তারেকেরই একসময়কার বিশ্বস্ত অনুচর বাবর। ৩০টি তাজা প্রাণের কষ্ট হাসিনা এত সহজে ভুলে যাবেন বলে যারা ভাবেন তারা বোকার স্বর্গে আছেন। তারেক অন্তত অত বোকা না, তাইতো থেমস নদীর পানি তার কাছে খুবই সুপেয়।
১৯৮১ সালের আগে বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের অবস্থা অনেকেই জানেন। খন্ড বিখন্ড আওয়ামীলীগের অস্তিত্ব সংকটের সেই ক্রন্তিকালে হাসিনার আগমন ছিল রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামীলীগের টিকে থাকার জনয় এক বড় টনিক।
এখন কথা হচ্ছে কব্বরে এক পা আরেক পা কলার ছোবড়ায় দেয়া খালিদা যদি সত্যিই হইধাম ত্যাগ করেন কি হবে এক সময়ের রাজনৈতিক ডাইনোসার বিএনপির অবস্থা? তখন নেতৃত্ব শূন্য বিএনপির হাল ধরবে কে? সম্ভাব্য বহুভাগে বিভক্ত বিএনপি কি কালের গহ্ববরে হারিয়ে যাওয়া মুসলিমলোগের মতই ভাগ্যবরণ করবে? আর যদি তাই হয় তাতে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশের ৪৬ বছরের গণতন্ত্র, আর জবাবদিহিতার প্রয়োজনহীনতার কারণে আওয়ামীলীগের অভিযুক্ত শাসন সত্যিকার অর্থেই দুঃশাসনে পরিণত হবে।
দেশে কি ধরণের গণতন্ত্র আছে সবাই জানি, খালিদার আমলেও এই গণতন্ত্রের হাল হকিকত যে আরও নাজুক ছিল তাও আমাদের কমবেশী জানা। ঐ সময়েই সরকারের প্যারালাল আরেক সরকার গড়ে উঠেছিল উত্তরের জনপদগুলোতে বাংলা ভাইর হাত ধরে সে স্মৃতি বেশীদিন আগের নয়।
এখন কথা হচ্ছে আমাদের শোষিত হতে হবে আওয়ামী যদুরাম কিংবা বিএনপি নামক কদুখানদের দ্বারা। কদুখানদের যে সাংগঠনিক শক্তি তাতে যদুরামদের ক্ষমতার মধুর হাড়ি থেকে মুখ সরানো তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়াবে।
ধরুন আরও ৭/৮ বছর আওয়ামী যদুরামরা ক্ষমতায় থাকবে যা অবস্থা দৃষ্টে নিশ্চিতই মনে হয়, আর যদি তাই হয় তাহলে কদুখানদের অবস্থা কি দাঁড়াবে? আমার এক বন্ধু যিনি কদুখান নেত্রীর একনিষ্ট ভক্ত সে বলল তার নেত্রীর এক পা কব্বরে আরেক পা কলার ছোবড়ায়, যে কোন মুহুর্তে চিৎপটাং। আল্লাহ না করুক যদি কদুখান নেত্রী এই ৭/৮ বছরের মধ্যে মারা যায় তাহলে বিএনপির নেতৃত্বের হাল কে ধরবে?
আসুন তার একটা সম্ভাব্য দৃশ্যপট নিয়ে আমাদের ছোট্ট একটা শর্ট ফিল্প দেখা হয়ে যাক। ২১ আগষ্টের সমাবেশে ঢাকাতে আওয়ামীলীগের সমাবেশে বোমা হামলা। ২৫/৩০ জন মানুষের রক্তাক্ত বিভীষিকাময় সেই মৃত্যু। খন্ডিত হাত, পা, মাথা এদিক সেদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবর, জজমিয়া নাটক। প্রহসনমূলক বিচারের নাটিকা। ১০ ট্রাক অস্র, অস্র লাপাত্তা।
- কি বুঝলেন?
এবার চলুন আওয়ামীলীগ আমলে ধৃত বাবরের বিচারিক কার্যক্রমে একটু চোখ বুলাই। আচ্ছা এই যে বাংলা ভাই, জঙ্গি এত মানুষের বিচার দেখে আপনারা অবাক হয়ে ভাবছেন না বাবরের বিচার কাজ সম্পন্ন হতে এত সময় লাগছে কেন? বাবরকে আপনারা জেল থেকে আদালতে যেতে আসতে কমবেশী সকলেই দেখেন। তাকে কি জীবন্ত মানুষ মনে হয়? বলুনতো বাবর এই রকম জীবন্মৃত অবস্থায় কতদিন থাকবে?
আপনাদের একটা সরল সমীকরণ এঁকে দেই, বাবর ততদিন এরকম অর্ধ্মৃত অবস্থায় থাকবে যতদিন হাসিনা তাকে সে অবস্থায় রাখার প্রয়োজন বোধ করেন। বাবর হাসিনার তুরুপের তাস, তুরুপের ছোট বড় তাস আরও আছে সে আলোচনা অন্য সময়েও করা যাবে। ১৯৮১ সাল, প্রবল ঝুঁকি নিয়েও হাসিনা দেশে ফিরেছিলেন সেই সামরিক সরকারের আমলেও। হাসিনার গণতান্ত্রিক বা তথাকথিত বা যাই হোক তারেক দেশে ফেরার সাহস করছেন না, কিন্তু কেন? বিএনপি যারা করেন তারা থেকে শুরু করে তাদের উপদেষ্টাসহ সকলেই জানেন ২১ শে আগষ্টের বোমা হামলায় তারেকের সরাসরি জড়িত থাকার তথ্য প্রমাণ বেশ ভালোই আছে বর্তমান সরকারের হাতে। আর সাক্ষী হিসেবী রেডি তারেকেরই একসময়কার বিশ্বস্ত অনুচর বাবর। ৩০টি তাজা প্রাণের কষ্ট হাসিনা এত সহজে ভুলে যাবেন বলে যারা ভাবেন তারা বোকার স্বর্গে আছেন। তারেক অন্তত অত বোকা না, তাইতো থেমস নদীর পানি তার কাছে খুবই সুপেয়।
১৯৮১ সালের আগে বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের অবস্থা অনেকেই জানেন। খন্ড বিখন্ড আওয়ামীলীগের অস্তিত্ব সংকটের সেই ক্রন্তিকালে হাসিনার আগমন ছিল রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামীলীগের টিকে থাকার জনয় এক বড় টনিক।
এখন কথা হচ্ছে কব্বরে এক পা আরেক পা কলার ছোবড়ায় দেয়া খালিদা যদি সত্যিই হইধাম ত্যাগ করেন কি হবে এক সময়ের রাজনৈতিক ডাইনোসার বিএনপির অবস্থা? তখন নেতৃত্ব শূন্য বিএনপির হাল ধরবে কে? সম্ভাব্য বহুভাগে বিভক্ত বিএনপি কি কালের গহ্ববরে হারিয়ে যাওয়া মুসলিমলোগের মতই ভাগ্যবরণ করবে? আর যদি তাই হয় তাতে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশের ৪৬ বছরের গণতন্ত্র, আর জবাবদিহিতার প্রয়োজনহীনতার কারণে আওয়ামীলীগের অভিযুক্ত শাসন সত্যিকার অর্থেই দুঃশাসনে পরিণত হবে।
খালেদা জিয়ার মিশন ভিশন ঘোলাটে
খালেদা জিয়া একাধিকবারের প্রধানমন্ত্রী। তার ঘোষিত ভিশন ২০৩০ নিয়ে কথা হতেই পারে। কিন্তু অপমানজনক কথাবার্তা বা সমালোচনার নামে নিন্দা ঠিক ভালো লাগছে না। এটা মানি, বেগম জিয়া এখন আর আগের জায়গায় নেই। তার ক্যারিশমা এখন অস্তমিত। বয়স তাকে কাবু করে ফেলেছে। তিনি ভালো করে কথা বলতে পারছেন না। তার হাঁটুর ব্যথা, তার চলাফেরার অসুবিধা এখন প্রকাশ্য। বিএনপি দল হিসেবে এমন বিপদে পড়েনি কখনো। আসলে তাদের এতদিনের ছদ্মবেশ খুলে পড়ার পর বিএনপি এখন এক অচল দল। সরকারে থাকতে অভ্যস্ত দলটি বিরোধী দলে আসার পর ধীরে ধীরে এতটা হীনবল হয়ে যাবে কেউ ভাবেনি। পরপর দুবার আওয়ামী শাসনের পর বিএনপি কাগুজে দলে পরিণত হয়ে যাবে এটা বোধকরি আওয়ামী লীগও কল্পনা করতে পারেনি।
বলা বাহুল্য, শেখ হাসিনার উদ্ভাস ও তার নেতৃত্বের বিজয়েই তাদের এই হাল। বঙ্গবন্ধু কন্যা নিজের প্রজ্ঞা আর মেধায় আজ প্রায় অপ্রতিদ্ব›দ্বী। তিনি হঠাৎ করে উঠে আসেননি। তার রক্তে আছে রাজনীতির গৌরবময় উত্তরাধিকার। জীবনের শুরু থেকেই তিনি বাংলাদেশের রাজনীতি ও দেশের রাজনৈতিক দলের কাজকর্ম দেখে বড় হয়েছেন। তা ছাড়া তার দলের ইতিহাস ও অতীত শুধু দেশ নয়, উপমহাদেশের এক উজ্জ্বল অধ্যায়। এই দল দেশ স্বাধীন করেছে। এই দলের নেতারা মাঠে-ময়দানে লড়াই করে নেতা হয়েছিলেন। তারা কারাগারে জান দিলেও মত বদলায়নি। বাংলাদেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নেয়ার রাজনীতিকে মানেননি তারা। জিয়াউর রহমানের সময়কাল আর এখনকার সময় কি এক?
তখন শিশু জাতি নাবালক জাতি ঠিক বুঝে উঠতে পারেনি কি করা উচিত। মাথার ওপর চেপে বসা রাজাকার আর স্বাধীনতাবিরোধীদের তারা মানতে না চাইলেও ঝেড়ে ফেলতে পারেনি। ক্রমে ক্রমে এরা এমনভাবে জাঁকিয়ে বসেছিল যেন এই আমাদের নিয়তি। অথচ সময় চুপ করে তার কাজ করে যাচ্ছিল। জাতি হয়ে উঠছিল সাবালক। আজ যে প্রজন্ম তরুণ আজ যারা মধ্য বয়সের দ্বারপ্রান্তে তাদের মনে বাংলাদেশ এক জাগ্রত সত্তা। নিজের দেশ বলতে তারা একেই জানে। আমরা যারা পাকিস্তানে জন্মেছি রক্তে যাদের পরাধীনতা তারা এক জীবনে দুই দেশের নাগরিক বা দুই চেহারা দেখে বড় হয়েছি, আমরাই দোদুল্যমান প্রজন্ম। যত দিন আমরা দেশের রাজনীতিতে চলমান ছিলাম আমাদের অগ্রজেরা এর দেখভাল করত তত দিন বিএনপির রমরমা ছিল। সেটাই স্বাভাবিক। কারণ বিএনপি না জামায়াত না মুক্তিযুদ্ধ। না উদার না মৌলবাদ। না সামরিক না বেসামরিক। এই জগাখিচুড়ির সঙ্গে হুবহু মিলে যায় মুসলিম লীগের রাজনীতি। সে খোলস যখন খুলে গেছে তখন প্রান্তিক নামে পরিচিত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভেতর জনপ্রিয় হলেও আসলে বিএনপি মধ্যবিত্তের মনে আর আগের মতো নেই। সুবিধাবাদী মধ্যবিত্ত শ্রেণি বরাবরই এমন। তারা তাদের হক কড়ায় গণ্ডায় বুঝে নিতে জানে।
কি চায় তারা? নিজেদের সুখ বিলাস নিরাপত্তা আর বিনোদন। তার কমতি নেই দেশে। সামাজিক মিডিয়ার নামে যেসব মিডিয়া এখন চলমান তাদের দিকে তাকালেই বোঝা সম্ভব বাংলাদেশ আর যাই হোক পাকিস্তান হবে না। আমাদের মিডিয়াও এ বিষয়ে এতটাই আগুয়ান যে কোনো কিছু এখন আর গোপন থাকে না। যত গোপনীয়তা কমেছে বিএনপির রাজনীতি ততই কোণঠাসা হয়ে গেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শাস্তি আর তাদের পরিণতি নিয়ে টুঁ শব্দটিও উচ্চারণ করতে পারেনি বিএনপি। কেন? কারণ মিডিয়া সব খোলাসা করে দিয়েছে। চুপ থেকে নীরবতার ভেতর দিয়ে সময় পার করা গেলেও নিজেদের আসন ঠিক রাখতে পারেনি বিএনপি। তারা তাদের মিত্রদের প্রতি যেমন অন্যায় করেছে তেমনি এ দেশের জনগণের সঙ্গেও প্রতারণা করেছে। এখন আর কেউ বিএনপিকে ভরসা করে জোট বাঁধবে কিভাবে। যারা তাদের শরিক দলের প্রধানের ফাঁসিতে নীরব থাকে একটা মিছিল পর্যন্ত করতে পাওে না তাদের সঙ্গে জোট বেঁধে কি লাভ অন্যদের?
ফিরে আসি বর্তমানে। বিএনপি হয়তো ভাবছে তারা সরকারে যেতে পারবে এবং গেলে ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু এই ভিশনও গোলমেলে। যেসব আদর্শ উদ্দেশ্য বা কাজের কথা তারা বলছেন সেগুলো ইতোমধ্যে অনেকটাই বাস্তবায়িত হয়ে গেছে। কিছু আছে চলমান। যেগুলো করবে বলে বলা হয়েছে সেগুলো আসলেই অসম্ভব। আবেগের আতিশয্যে জনপ্রতি একজন করে ডাক্তার দেয়ার প্রত্যয় কি বাস্তবোচিত? দুনিয়ার কোন সভ্য দেশে কোন উন্নত দেশে তা হয়েছে? না হতে পারে? এমন আরো অনেক বিষয় আছে যেগুলো মূলত কথার কথা। তারপরও বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। তাদের অধিকার আছে নিজেদের কথা বলার। সেটা কতটা সম্ভব বা অসম্ভব সেটা জনগণই বিবেচনা করবে। তাই বলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিডিয়ায় এসে সব নাকচ করে দিয়ে তাদের মনগড়া কথা বলবেন এটা মানা যায় না।
এতে প্রমাণিত হয় আওয়ামী লীগ আসলে বিএনপিকে তাদের মূল প্রতিদ্ব›দ্বী মনে করে। বিএনপির বাইরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যেসব রাজনৈতিক দলের ঐক্য বা বিরোধ কই তাদের নিয়ে তো তারা কিছু বলে না। এই কদিন আগে এরশাদ সাহেব নতুন জোটের ঘোষণা করলেন। অর্ধশতাধিক সাইনবোর্ড সর্বস্ব দলের সমন্বয়ে এরশাদের জোট কি তাহলে ভুয়া? সেখানে ইসলামী দলেরও লম্বা তালিকা আছে। বহুরূপী এরশাদ কখন কি করেন বলা মুশকিল। হয়তো সে কারণে অথবা বাজার বুঝে আওয়ামী লীগ বিএনপিকেই টার্গেট করেছে। কিন্তু এভাবে বলার ভেতর নিজেদের দুর্বলতা প্রকাশ না করাই দলের জন্য মঙ্গলজনক।
বিএনপি ভিশন প্রকাশ করেছে বটে সে এজেন্ডাগুলোর বাস্তবায়ন অত সহজ না। খালেদা জিয়া ২০৩০ সালে কত বছরে পা রাখবেন? তিনি কি সে সময় এমন সচল থাকতে পারবেন? আর যদি তিনি না পারেন তো বিকল্প কোথায়? তারেক জিয়া একজন দাগি আসামি। আইন তাকে ছাড়বে? তা ছাড়া বিএনপির ঘর গোছাতেই লাগবে দীর্ঘ সময়। সে সময়কালে তাদের পুরনো নেতারা থাকবেন কিনা সেটাও ভাবার ব্যাপার। কথায় বলে গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল। সেই কাঁঠাল গাছে ধরতে না ধরতেই তা নিয়ে আওয়ামী তথা সরকারি দলের এই হৈ চৈ মূলত বিএনপিকেই লাভবান করছে। লাভ এইটুকু এখন অন্তত দলগুলো ইশতেহার নামের কাগজের পরিবর্তে কাজের তালিকা করে ভিশনের কথা বলছে। আবারো বলি শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের পরিশ্রমী মেধাবী মানুষরাই এর জন্য ধন্যবাদ পাবেন। তারা দেশকে এমন জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছেন যাতে বিএনপির মতো দলও ভিশনের পথে পা বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। বাংলাদেশ তুমি পারোও বটে।
বলা বাহুল্য, শেখ হাসিনার উদ্ভাস ও তার নেতৃত্বের বিজয়েই তাদের এই হাল। বঙ্গবন্ধু কন্যা নিজের প্রজ্ঞা আর মেধায় আজ প্রায় অপ্রতিদ্ব›দ্বী। তিনি হঠাৎ করে উঠে আসেননি। তার রক্তে আছে রাজনীতির গৌরবময় উত্তরাধিকার। জীবনের শুরু থেকেই তিনি বাংলাদেশের রাজনীতি ও দেশের রাজনৈতিক দলের কাজকর্ম দেখে বড় হয়েছেন। তা ছাড়া তার দলের ইতিহাস ও অতীত শুধু দেশ নয়, উপমহাদেশের এক উজ্জ্বল অধ্যায়। এই দল দেশ স্বাধীন করেছে। এই দলের নেতারা মাঠে-ময়দানে লড়াই করে নেতা হয়েছিলেন। তারা কারাগারে জান দিলেও মত বদলায়নি। বাংলাদেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নেয়ার রাজনীতিকে মানেননি তারা। জিয়াউর রহমানের সময়কাল আর এখনকার সময় কি এক?
তখন শিশু জাতি নাবালক জাতি ঠিক বুঝে উঠতে পারেনি কি করা উচিত। মাথার ওপর চেপে বসা রাজাকার আর স্বাধীনতাবিরোধীদের তারা মানতে না চাইলেও ঝেড়ে ফেলতে পারেনি। ক্রমে ক্রমে এরা এমনভাবে জাঁকিয়ে বসেছিল যেন এই আমাদের নিয়তি। অথচ সময় চুপ করে তার কাজ করে যাচ্ছিল। জাতি হয়ে উঠছিল সাবালক। আজ যে প্রজন্ম তরুণ আজ যারা মধ্য বয়সের দ্বারপ্রান্তে তাদের মনে বাংলাদেশ এক জাগ্রত সত্তা। নিজের দেশ বলতে তারা একেই জানে। আমরা যারা পাকিস্তানে জন্মেছি রক্তে যাদের পরাধীনতা তারা এক জীবনে দুই দেশের নাগরিক বা দুই চেহারা দেখে বড় হয়েছি, আমরাই দোদুল্যমান প্রজন্ম। যত দিন আমরা দেশের রাজনীতিতে চলমান ছিলাম আমাদের অগ্রজেরা এর দেখভাল করত তত দিন বিএনপির রমরমা ছিল। সেটাই স্বাভাবিক। কারণ বিএনপি না জামায়াত না মুক্তিযুদ্ধ। না উদার না মৌলবাদ। না সামরিক না বেসামরিক। এই জগাখিচুড়ির সঙ্গে হুবহু মিলে যায় মুসলিম লীগের রাজনীতি। সে খোলস যখন খুলে গেছে তখন প্রান্তিক নামে পরিচিত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ভেতর জনপ্রিয় হলেও আসলে বিএনপি মধ্যবিত্তের মনে আর আগের মতো নেই। সুবিধাবাদী মধ্যবিত্ত শ্রেণি বরাবরই এমন। তারা তাদের হক কড়ায় গণ্ডায় বুঝে নিতে জানে।
কি চায় তারা? নিজেদের সুখ বিলাস নিরাপত্তা আর বিনোদন। তার কমতি নেই দেশে। সামাজিক মিডিয়ার নামে যেসব মিডিয়া এখন চলমান তাদের দিকে তাকালেই বোঝা সম্ভব বাংলাদেশ আর যাই হোক পাকিস্তান হবে না। আমাদের মিডিয়াও এ বিষয়ে এতটাই আগুয়ান যে কোনো কিছু এখন আর গোপন থাকে না। যত গোপনীয়তা কমেছে বিএনপির রাজনীতি ততই কোণঠাসা হয়ে গেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শাস্তি আর তাদের পরিণতি নিয়ে টুঁ শব্দটিও উচ্চারণ করতে পারেনি বিএনপি। কেন? কারণ মিডিয়া সব খোলাসা করে দিয়েছে। চুপ থেকে নীরবতার ভেতর দিয়ে সময় পার করা গেলেও নিজেদের আসন ঠিক রাখতে পারেনি বিএনপি। তারা তাদের মিত্রদের প্রতি যেমন অন্যায় করেছে তেমনি এ দেশের জনগণের সঙ্গেও প্রতারণা করেছে। এখন আর কেউ বিএনপিকে ভরসা করে জোট বাঁধবে কিভাবে। যারা তাদের শরিক দলের প্রধানের ফাঁসিতে নীরব থাকে একটা মিছিল পর্যন্ত করতে পাওে না তাদের সঙ্গে জোট বেঁধে কি লাভ অন্যদের?
ফিরে আসি বর্তমানে। বিএনপি হয়তো ভাবছে তারা সরকারে যেতে পারবে এবং গেলে ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু এই ভিশনও গোলমেলে। যেসব আদর্শ উদ্দেশ্য বা কাজের কথা তারা বলছেন সেগুলো ইতোমধ্যে অনেকটাই বাস্তবায়িত হয়ে গেছে। কিছু আছে চলমান। যেগুলো করবে বলে বলা হয়েছে সেগুলো আসলেই অসম্ভব। আবেগের আতিশয্যে জনপ্রতি একজন করে ডাক্তার দেয়ার প্রত্যয় কি বাস্তবোচিত? দুনিয়ার কোন সভ্য দেশে কোন উন্নত দেশে তা হয়েছে? না হতে পারে? এমন আরো অনেক বিষয় আছে যেগুলো মূলত কথার কথা। তারপরও বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। তাদের অধিকার আছে নিজেদের কথা বলার। সেটা কতটা সম্ভব বা অসম্ভব সেটা জনগণই বিবেচনা করবে। তাই বলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিডিয়ায় এসে সব নাকচ করে দিয়ে তাদের মনগড়া কথা বলবেন এটা মানা যায় না।
এতে প্রমাণিত হয় আওয়ামী লীগ আসলে বিএনপিকে তাদের মূল প্রতিদ্ব›দ্বী মনে করে। বিএনপির বাইরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যেসব রাজনৈতিক দলের ঐক্য বা বিরোধ কই তাদের নিয়ে তো তারা কিছু বলে না। এই কদিন আগে এরশাদ সাহেব নতুন জোটের ঘোষণা করলেন। অর্ধশতাধিক সাইনবোর্ড সর্বস্ব দলের সমন্বয়ে এরশাদের জোট কি তাহলে ভুয়া? সেখানে ইসলামী দলেরও লম্বা তালিকা আছে। বহুরূপী এরশাদ কখন কি করেন বলা মুশকিল। হয়তো সে কারণে অথবা বাজার বুঝে আওয়ামী লীগ বিএনপিকেই টার্গেট করেছে। কিন্তু এভাবে বলার ভেতর নিজেদের দুর্বলতা প্রকাশ না করাই দলের জন্য মঙ্গলজনক।
বিএনপি ভিশন প্রকাশ করেছে বটে সে এজেন্ডাগুলোর বাস্তবায়ন অত সহজ না। খালেদা জিয়া ২০৩০ সালে কত বছরে পা রাখবেন? তিনি কি সে সময় এমন সচল থাকতে পারবেন? আর যদি তিনি না পারেন তো বিকল্প কোথায়? তারেক জিয়া একজন দাগি আসামি। আইন তাকে ছাড়বে? তা ছাড়া বিএনপির ঘর গোছাতেই লাগবে দীর্ঘ সময়। সে সময়কালে তাদের পুরনো নেতারা থাকবেন কিনা সেটাও ভাবার ব্যাপার। কথায় বলে গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল। সেই কাঁঠাল গাছে ধরতে না ধরতেই তা নিয়ে আওয়ামী তথা সরকারি দলের এই হৈ চৈ মূলত বিএনপিকেই লাভবান করছে। লাভ এইটুকু এখন অন্তত দলগুলো ইশতেহার নামের কাগজের পরিবর্তে কাজের তালিকা করে ভিশনের কথা বলছে। আবারো বলি শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের পরিশ্রমী মেধাবী মানুষরাই এর জন্য ধন্যবাদ পাবেন। তারা দেশকে এমন জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছেন যাতে বিএনপির মতো দলও ভিশনের পথে পা বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। বাংলাদেশ তুমি পারোও বটে।
আমরাও ধর্ষক
- “সৈয়দপুরে তৃতীয় শ্রেনীর ছাত্রীকে ধর্ষন”
- “সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে তৃতীয় শ্রেনী পড়ুয়া শিশুকে ধর্ষন”
- “পুরাতন পুলিশ কোয়ার্টারে সাড়ে ৩ বছরের শিশু ধর্ষনের শিকার”
- “বরগুনায় ৫ম শ্রেনীর শিশু ধর্ষনের শিকার”
- “মুরাদনগরে ৫ বছরের শিশু ধর্ষন”
- “কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামে দুই শিশু ধর্ষন”
- “১৮ ঘন্টা আটকে রেখে ৫ বছরে শিশু ধর্ষন”
- “ফরিদগঞ্জে ৪ বছরের শিশু ধর্ষন”
- “আড়াইহাজারে শিশু ধর্ষন: ধরা ছোঁয়ার বাইরে ৪ লম্পট”
- “সাত শিশুকে ধর্ষণ, প্রধান শিক্ষক আটক”
- “শিশু ধর্ষণ বাড়ছে : ৩৪ মাসে ১৬০০ নারী ও শিশু ধর্ষিত”
- “এবার ২ ও ৫ বছরের শিশু ধর্ষিত”
- “আট মাসের শিশু ধর্ষণ”
- “শিশু ধর্ষণ চেষ্টায় আনসার সদস্য আটক”
- “ধর্ষণের শিকার হয়ে শিশু হাসপাতালে”
- “৯ মাসে ধর্ষিত ৩২৫ শিশু!”
- “দিনাজপুরে ধর্ষণের শিকার শিশুটির অস্ত্রোপচার হয়েছে”
- “সৎ বাবার ধর্ষণে ১০ বছরের শিশু গর্ভবতী”
- “টেকনাফে ধর্ষনের শিকার ১১ বছরের শিশু”
ভাবছেন এক কথা বার বার কেন ? এসব আমাদের সোনার বাংলার অসৎ সন্তানেদের অপকর্মের দু’একটি নমুনা মাত্র।
একই ঘটনা বারং বার ঘটেই যাচ্ছে । আজ আমরা তাহলে কী সেই আইয়্যামে জাহিলের যুগে ফিরে যাচ্ছি ?
আমরা বার বার এক এক অজুহাত দিয়ে ছাই চাপা দিয়ে যাচ্ছি একের পর এক পৈশাচিক অপরাধ। প্রতিবাদ করছিনা এসকল অন্যায়ের। তবে কি আমরাও ধর্ষক নই ?
সচরাচর আমরা অস্লিল পোষাককে দোষ দেই, কখনো মেয়ের অস্বাভাবিক চাল চলনকে দোষ দিচ্ছি। তাহলে আমরা কী দিয়ে এই অপকর্ম ঢাকবো ? এখনো কী বলতে পারছি না যে, বাচ্চা গুলো অস্লিল পোষাকে ছিল ! বাচ্চা গুলোর চাল চলন খারাপ ছিল !
আমি অস্লিল পোষাককে সমর্থন করছিনা এবং করবোও না। অস্লিল পোষাক নিঃসন্দেহে নৈতিক অবক্ষয় ঘটায়। তাই বলে আমরাও কেন অস্লিল হবো ?
আইনের ফাঁক গলিয়ে বেঁচে যাচ্ছে এ সকল নর পিশাচ।আইন বিক্রিত হচ্ছে বার বার। টাকা আর ক্ষমতার জোরে অবাবেই অপরাধ করে বেরাচ্ছে পিশাচেরা।
জাতির অধঃপতন নিশ্চিত। ইতিহাস সাক্ষি কোন জাতিই নারীর প্রতি অসম্মান করে উন্নতি করতে পারেনি।
জানা কথা “চোরে না শোনে ধর্মের দোহাই” । তাই এসকল পিশাচের সাস্তি একমাত্র ফাঁসিই ।
Subscribe to:
Posts (Atom)





